উক্ত ব্যবস্থা অর্থাৎ বর্ণবাদ আফ্রিকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম অন্তরায় ছিল। কেননা একমাত্র বর্ণবাদী নীতির কারণে আফ্রিকার সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক বিভাজন লক্ষ করা যেত। নাগরিকগণের মধ্যে সমন্বয়হীনতার জন্য আফ্রিকায় উন্নয়নের লক্ষ্যে কোনো ঐক্য গড়ে ওঠেনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার সকল অধিবাসীকে তাদের গায়ের বর্ণের পার্থক্যের ভিত্তিতে কৃষ্ণ, শ্বেত, মিশ্র ও ভারতীয় এভাবে বিভক্ত করা হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রত্যেক বর্ণের অধিবাসীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়পত্রও তৈরি করা হয়। কৃষ্ণাঙ্গদের স্থানীয়ভাবে বাসস্থান নির্বাচন করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। বিশেষ অনুমতি ছাড়া দেশের ভিতরে স্বাধীনভাবে চলাচলের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কোনো কৃষ্ণাঙ্গ শহর এলাকায় ৭২ ঘণ্টার বেশি অবস্থান করতে, পারত না। তাছাড়াও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গদের সাথে কৃষ্ণাঙ্গদের পার্থক্য করা হতো। যেমন— ১. একই বাড়িতে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের বসবাস নিষিদ্ধ করা হয়। ২. শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে বিবাহ এবং যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ৩. স্বামী-স্ত্রী একই কারখানায় কাজ না করলে একত্রে বসবাস করতে পারত না। ৪. শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য আলাদা যাত্রীবাহী বাসের ব্যবস্থা ছিল। ৫. হাসপাতাল, সিনেমা হল, চলাচলের রাস্তা, হাট-বাজার ও শৌচাগারের পৃথক ব্যবস্থা ছিল। ৬. শ্বেতাঙ্গ এলাকায় কৃষ্ণাঙ্গরা জমি ক্রয় করতে পারত না। ৭. নিম্নমানের কায়িক পরিশ্রম কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। ৮. জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য কোনো ভোটাধিকার ছিল না। ৯. প্রচলিত বর্ণবাদী। আইনের বিরুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গরা ধর্মঘট বা কোনো আন্দোলন করতে পারত না। ফলে দ্বিধাবিভক্ত সমাজব্যবস্থা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে উন্নয়ন ঘটাতে ব্যর্থ হয়। তাই বলা যায়, বর্ণবাদ ব্যবস্থা আফ্রিকার সামাজিক' রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম অন্তরায় ছিল।