মিলন হলো ডোম সমাজের বিরুদ্ধে চলে আসার বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা প্রথম কণ্ঠস্বর।
যে সমাজের সাধারণ মানুষের নিকট বঞ্চনা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় এবং একে নিয়তি বলে মেনে নেয় অধিকাংশ মানুষ, সে সমাজে এরূপ প্রতিবাদী আন্দোলন নতুন ব্যাপার। এ কারণেই মিলনকে কারাগারে কাটাতে হয় দীর্ঘ সময়। কিন্তু মিলনের কারাগারে যাওয়ার মাধ্যমে তার সমাজের বাসিন্দারা এ বঞ্চনার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে এবং এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। ঐক্যবদ্ধ এ মানসিকতার নেতৃত্বদানকারী মিলন জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার ফলে আন্দোলন আরও গতিশীল হয়। সে মুক্তি পেয়ে ডোম সমাজের ভোট পেয়ে পৌরসভার কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়। তার মুক্তির ঘটনাটি এক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ ডোম সমাজের জন্য এক বিরাট ব্যাপার ছিল। কান্ডারি হারা নৌকা যেন মাঝি পায়। শক্ত হাতে নেতৃত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি তাদেরকে এগিয়ে নিতে থাকে। কেননা মিলনই প্রথম ব্যক্তি, যে ডোম সমাজ থেকে বিদ্যালয়ের গন্ডি পার হয়ে কলেজে পড়তে যায়। এদিক থেকে সে একাধারে একজন সচেতন আন্দোলনকারী, আবার সেই সাথে ডোম সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী। তার মুক্তি এ সমাজকে একজন নেতা পেতে সাহায্য করে। আবার একজন প্রতিবাদী ব্যক্তি জেল খেটে খাঁটি নেতায় পরিণত হয়।
বলা হয়ে থাকে, জেলের ভাত না খেলে বড় নেতা হওয়া যায় না। তেমনি মিলনও জেল থেকে ফিরে এসে নতুন উদ্যমে মাঠে নামে। তার এ পদক্ষেপ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে পৌরসভাটিতে।