সার্বজনীন মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠায় এ আন্দোলন তথা বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ভূমিকা ছিল অনন্য- প্রদত্ত বক্তব্যটির সাথে আমি একমত। উদ্দীপকের কবিতাংশে পৃথিবীর ঘৃণিত একটি প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হয়েছে। দেহের রং দিয়ে মানুষের বিচার হতে পারে না। মানুষ শুধুমাত্র তার দৈহিক বর্ণের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে পারে না। কিন্তু এক সময় শ্বেতাঙ্গ মানুষ কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর অমানুষিক আচরণ করত। কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গরা ঘৃণা, অবহেলা ও বৈষম্য কিছু মহৎপ্রাণ মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। তাঁরা শোষণ-নির্যাতন ও বর্ণবৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন। এদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং, মহাত্মা গান্ধী, ডেসমন্ড টুটু প্রমুখ। তারা নিজেদের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে গেছেন। বর্ণবাদের নির্মম প্রথা তাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছিল। নেলসন ম্যান্ডেলা বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দীর্ঘ সময় কারাবাস করেছেন। তবুও তিনি আন্দোলন থেকে সরে যাননি। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন সফল হলে কৃষ্ণাঙ্গরা ভোটাধিকার লাভ করা ছাড়াও কর্ম, শিক্ষা, ধর্ম ও চিন্তার স্বাধীনতা লাভ করেছে। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ফলে পৃথিবীর সকল মানুষ সমকাতারে উন্নীত হয়েছে। বর্ণবাদ বিলুপ্ত হলে কৃষ্ণাঙ্গরা সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিকসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যমুক্ত হয়। অমানবিক একটি প্রথার বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে বিশ্বে সার্বজনীন মানবতাবাদের আদর্শ আজ প্রতিষ্ঠিত। পরিশেষে বলা যায়, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন পৃথিবীর মানুষের মধ্যকার বৈষম্য-ব্যবধান ঘুচিয়ে একটি মানবিক পৃথিবী প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।