উদ্দীপকের মহারাজের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত মার্টিন লুথার কিং-এর চরিত্রের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ সমাজের অনিয়ম, অন্যায় ও বৈষম্য দেখে এর প্রতিকারকল্পে বন্ধুদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অন্যায়, অবিচার দূর করা। বিশ্বমানবতায় কোনো প্রভেদ থাকবে না- এটিই ছিল তার বাসনা। অনুরূপ ঘটনা মার্টিন লুথার কিং-এর ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। বাল্যকাল থেকেই মার্টিন লুথার কিং তার চারপাশের জগতে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ মানুষদের ঘৃণা, অবহেলা ও বৈষম্য অবলোকন করে ব্যথিত হন। তখন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেন শোষণ- নির্যাতন ও বর্ণবৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার। তার স্বপ্ন আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। ১৯৬৩ সালের ২৭ আগস্ট ওয়াশিংটনে প্রায় আড়াই লাখ জনতার সামনে তিনি এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, "আমি স্বপ্ন দেখেছি।" ১৯৬৪ সালে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অবিস্মরণীয় অবদান রাখার জন্য তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। নৌবেল পুরস্কারের সব অর্থ তিনি নিগ্রোদের মুক্তি আন্দোলনে দান করলেন। প্রেসিডেন্ট জনসন মার্টিন লুথারের আন্দোলনের অনেক দাবি মেনে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল নিগ্রোদের ভোটাধিকার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। তাই বলা যায়, লুখারের বাসনাসমূহ আজ আর স্বপ্ন নয়।