উদ্দীপকটি আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত বর্ণবৈষম্যের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
দৈহিক গঠন, ত্বকের রং, ধর্ম, বংশ পরিচয়, আবাসস্থল প্রভৃতির বিচারে কাউকে উঁচু বা নীচু শ্রেণিভুক্ত করার মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে তারতম্য করাই বর্ণবাদ। মূলত বাহ্যিক দৈহিক পার্থক্যকে ভিত্তি করে যুগে যুগে পৃথিবীর অনেক সমাজে মানুষকে উন্নততর বা। নিম্নতর জাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এভাবে এক দল আরেক দলকে পদানত করে শোষণ ও নির্যাতন করেছে। এ 'বর্ণবাদী' ব্যবস্থায় বিশেষ করে আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গরা একসময় শ্বেতাঙ্গদের মাধ্যমে শোষিত হয়েছে। আফ্রিকা ও আমেরিকার উপবেশগুলোতে সাদা চামড়ার মানুষেরা কালো চামড়ার মানুষদের অধস্তন হিসেবে চিহ্নিত করে অন্যায়ভাবে শোষণ-নির্যাতন করেছে। অনেক শ্বেতাঙ্গ মানুষের বন্ধমূল ধারণা ছিল যে, কৃষ্ণাঙ্গরা সবাই জন্মগতভাবেই ক্রীতদাস, অনেক মৌলিক অধিকার পাওয়ার যোগ্যতাই তাদের নেই। এরূপ পরিস্থিতিতে বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদী শোষণ ও বিভাজন চরমে উঠলে বিংশ শতাব্দীতে নেলসন ম্যান্ডেলা, ডেসমন্ড টুটু, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র প্রমুখ ব্যক্তির নেতৃত্বে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে। উল্লিখিত উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, সাদা-কালো দ্বন্দ্ব-সংঘাত অনেক পুরোনো। এ সংঘাতে কালোরাই সবচেয়ে বেশি শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত হয়েছে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয়টি আমার পঠিত বর্ণবৈষম্য ও বর্ণবাদের ধারণাকেই প্রকাশ করে।