উদ্দীপকের শ্রেণিভেদ প্রথা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের বর্ণবাদ সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ভারতে পরবর্তী বৈদিক যুগে সমাজে শ্রেণিভেদ প্রথা প্রকট আকার ধারণ করে। ব্রাহ্মণরা উঁচু শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় অপর তিন শ্রেণিকে ঘৃণার চোখে দেখত। বিশেষত বৈশ্য ও শূদ্র শ্রেণির সঙ্গে তারা পারস্পরিক ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করত না। যদিও সমাজ বিনির্মাণে সকল শ্রেণির অবদান রয়েছে। পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের সর্বত্র কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ মানুষের ঘৃণা, অবহেলা ও বৈষম্য বিরাজ করত। ট্রামে, বাসে, স্কুলে, কলেজে, পথে-ঘাটে, চাকরিতে সর্বত্র কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি ছিল শ্বেতাঙ্গদের ঘৃণা। সর্বক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের তুলনায় বেশি অগ্রাধিকার ভোগ করত। তখন আমেরিকার দক্ষিণ অালের অধিকাংশ রাজ্যেই বাসের সামনের দিকে বসবার অধিকার ছিল না নিগ্রোদের। সমস্ত বাসুই সুরক্ষিত থাকত শ্বেতাঙ্গদের জন্য। বহু অঙ্গরাজ্যে নিগ্রোদের কোনো ভোটাধিকার ছিল না। সরকারি উচ্চপদে আসীন হওয়ার অধিকার ছিল না নিগ্রোদের। কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্ররা শ্বেতাঙ্গ ছাত্রদের সাথে একই সাথে বসে খাবার খাওয়ার অধিকার পেত না। কোনো কোনো দোকানের ক্যান্টিনে কৃষ্ণাঙ্গদের কোনো খাবার অধিকার ছিল না। এভাবে আমেরিকাতে বিশ শতকে নিগ্রোরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শোষণ-বঞ্চনার শিকার হয় বর্ণবাদ প্রচলিত থাকায়।
সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের শ্রেণিভেদ প্রথা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের বর্ণভেদ সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।