উক্ত ঘটনা অর্থাৎ ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব সারাবিশ্বে ব্যাপক প্রভাব ফেলে – উক্তিটি যথার্থ।
কেননা, ঊনবিংশ শতাব্দীতে শিল্পবিপ্লবজনিত পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে ইউরোপের বাইরে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাম্রাজ্য বিস্তারের চেষ্টা নব উদ্যমে শুরু হয়। দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রকট আকার ধারণ করে। পুঁজিবাদের প্রসারের ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে যৌথ, বণিক সংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়, যাদের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ফলে বণিক সংঘগুলোর মালিক ও অংশীদারগণ পুঁজি সঞ্চয় করে স্ফীত হয়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ফরাসি ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ডাচ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাম উল্লেখ করা যায়। শুধু শিল্প বিপ্লবজনিত পরিবর্তিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ইউরোপীয় দেশগুলো উপনিবেশ বিস্তারের নীতি গ্রহণ করেনি। বরং এর পিছনে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্দেশ্যও বিদ্যমান ছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেৱ ব্যাখ্যায় বলা যায়, সাম্রাজ্যের বিশালতার ওপরই দেশের শক্তি, মর্যাদা ও গৌরবের মানদণ্ড নির্ভর করে। এ মনোবৃত্তিই ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উপনিবেশ বিস্তারের প্রতিযোগিতা তীব্রতর করে তোলে। পাশ্চাত্য সভ্যতা ও খ্রিস্টধর্ম প্রচারের মনোভাব তাদেরকে উপনিবেশ স্থাপনে আগ্রহী করে তোলে। প্রত্যেক দেশের উদ্বৃত্ত জনসংখ্যার জীবিকার সন্ধানে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো সাম্রাজ্য বিস্তারের নীতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়। মাৎস্যন্যায় অবস্থায় পুকুরের বড় মাছগুলো যেমন ছোট ছোট মাছগুলো গিলে ফেলে, তেমনি ১৮৭০-পরবর্তী শিল্পসমৃদ্ধ ইউরোপীয় জাতিগুলো এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোকে গিলে ফেলে। শকুন যেমন মৃতদেহের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং মৃতদেহের দখল নিয়ে পরস্পর কাড়াকাড়িতে লিপ্ত হয়, তেমনি উপনিবেশ দখল ও রক্ষার জন্য ইউরোপীয় জাতিগুলো এশিয়া ও আফ্রিকার কৃষিপ্রধান দরিদ্র দেশগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকে। এজন্য ১৮৭০-১৮১৪ সময়কালকে ঐতিহাসিকগণ নাম দিয়েছেন সাম্রাজ্যবাদের যুগ'।
পরিশেষে বলা যায়, শিল্প বিপ্লবপ্রসূত পুঁজিবাদ এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা মহাদেশে উপনিবেশ বিস্তারে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করে। তাই বলা যায়, ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ঘটনা সারাবিশ্বে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।