তুমি কি মনে করো, ফ্রান্সের সাধারণ মানুষ বুর্জোয়া শ্রেণির নেতৃত্বে পুরাতন সমাজব্যবস্থা ভেঙ্গে নতুন সমাজ গঠনে তৎপর হয়। ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: হ্যাঁ আমি মনে করি, ফ্রান্সের সাধারণ মানুষ বুর্জোয়া শ্রেণির নেতৃত্বে পুরাতন সমাজব্যবস্থা ভেঙে নতুন সমাজ গঠনে তৎপর হয়। কোনো বিপ্লবই একক কোনো কারণে সংঘটিত হয় না। এর পিছনে থাকে বহুবিধ কারণ। ফ্রান্সের ফরাসি বিপ্লবের পিছনেও ছিল অনেক কারণ। ফরাসি বিপ্লব প্রাক্কালে ফ্রান্সের সমাজব্যবস্থা দুভাগে বিভক্ত ছিল। যথা— বিশেষ অধিকারপ্রাপ্ত ও অধিকারহীন। অধিকারপ্রাপ্ত সম্প্রদায় ছিল যাজক ও অভিজাত সম্প্রদায়। ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪ ভাগ ছিল এ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। আর অধিকারহীন সম্প্রদায় ছিল যাজক ও অভিজাত শ্রেণি ছাড়া সমাজের অন্যান্য শ্রেণি ও পেশার মানুষ। এদের সংখ্যা ছিল শতকরা ৯৬ ভাগ। এ শ্রেণির মানুষের মধ্যে একশ্রেণি ছিল বুর্জোয়া যেমন— চিকিৎসক, চাকরিজীবী, শিক্ষক, আইনজীবী, বড় বড় শিল্পের মালিক। এ বুর্জোয়া শ্রেণির হাত ধরেই ফ্রান্সের সাধারণ জনগণ পুরাতন সমাজব্যবস্থা ভেঙে নতুন সমাজ গঠনে তৎপর হয়। ফ্রান্সের সমাজব্যবস্থায় যাজকরা ছিল প্রথম স্তরের আর অভিজাতরা ছিল দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। আর সকল সম্প্রদায় ছিল তৃতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। প্রথম স্তরের লোকজন অর্থাৎ যাজক সম্প্রদায় সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। তারা তাদের সম্পদের কোনো কর প্রদান করত না। দেশের মোট জমির ২০ ভাগের মালিকানা ছিল যাজকরা। ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যার ৯৬ ভাগ ছিল তৃতীয় সম্প্রদায়। এই তৃতীয় সম্প্রদায়কে বাধ্যতামূলক সকল প্রকার কর প্রদান করতে হতো। তৃতীয় সম্প্রদায়ের ধন-সম্পদ তেমন না থাকলেও ধনীদের বিরুদ্ধে তারা ছিল একমত। মূলত ফরাসি বিপ্লর ছিল বুর্জোয়া বিপ্লব। ফরাসি - বিপ্লবে সমাজে যে নতুন ফসল ফলে তা বুর্জোয়া শ্রেণিই গড়ে তোলে। কেননা, ফ্রান্সের সাধারণ জনগণও বুঝতে পারে সামাজিক বৈষম্য রোধ করতে হলে বিপ্লবই একমাত্র পথ। আর এ বিপ্লব কেবলমাত্র বুর্জোয়া শ্রেণিদের মাধ্যমে করা সম্ভব। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ফরাসি বিপ্লবের সাধারণ জনগণ বুর্জোয়া শ্রেণির নেতৃত্বে তৎপর হয়।
HSC History 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 2nd Paper · সৃজনশীল
তুমি কি মনে করো, ফ্রান্সের সাধারণ মানুষ বুর্জোয়া শ্রেণির নেতৃত্বে …
উদ্দীপক
নটরডেম কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর