উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ফরাসি বিপ্লবের দার্শনিকদের দিকটির মিল রয়েছে।
আধুনিক যুগের প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের পশ্চাতে বুদ্ধিজীবী তথা দার্শনিকদের অবদান রয়েছে। কোন বিপ্লবই দানা বাঁধতে পারে না যতক্ষণ না সেটা কোনো নির্দিষ্ট ভাবধারার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থনৈতিক,সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট বিপ্লবের পটভূমি তৈরি করে। কিন্তু বিপ্লবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করে দেয় বিপ্লবী দর্শন। ফরাসি বিপ্লবের পশ্চাতে তেমনি ছিল বুদ্ধিজীবীদের বিপ্লবী দর্শন।অষ্টাদশ শতকের জ্ঞানদীপ্তি কিছু সংখ্যক মানুষের মনে যে সচেতনতার আলো ছড়িয়েছিলো। তারই প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছিল উদার ও গণতান্ত্রিক ভাবধারা। স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইউরোপে ছড়িয়ে ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চেতনা,ব্যক্তি স্বাধীনতা,বাক স্বাধীনতা, জনগণের মৌলিক অধিকারের বাণী।
ফ্রান্সের বিপ্লবের দার্শনিক পটভূমি সৃষ্টিতে যাদের বিশেষ অবদান ছিলো তাদের মধ্যে ভলতেয়ার, মন্টেস্কু, রুশো প্রমুখ দার্শনিকদের নাম উল্লেখযোগ্য। ভলতেয়ার জন্মগতভাবে ছিলেন প্রতিভাবান। তার লেখনি ছিল ক্ষুরধার। তার দর্শন ছিলো,“সহস্র ইঁদুর দ্বারা শাষিত হওয়ার চেয়ে একজন সিংহের দ্বারা শাসিত হওয়া ভালো”। এছাড়াও মন্টেস্কু লিখেছিলেন “Spirit of Laws”.তার ক্ষমতা বিভক্তিকরণ নীতি ফরাসি বিপ্লবকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করেছিল। জ্যাঁ জ্যাক রুশের রাষ্ট্র চিন্তা ছিলো পুরোপুরি গণতান্ত্রিক। তার গ্রন্থের নাম “Social Contract”. তার অবিস্মরণীয় উক্তি, “মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মায়, সর্বত্র সে শৃঙ্খলিত”।