উদ্দীপকের বর্ণিত সামাজিক বৈষম্য আমার পাঠ্যবইয়ের ফরাসি বিপ্লবের পূর্ববর্তী ফ্রান্সের সামাজিক বৈষম্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে সকল বিপ্লবের পিছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। সকল বিপ্লব সংগ্রামের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যগুলোকে ধ্বংস করা হয়। আর এসব আন্দোলন বিপ্লবের মূলে থাকে অধিকারহীন সম্প্রদায়। যারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিকভাবে বঞ্চিত ও শোষিত হয়। আর এ শোষণের হাত থেকে মুক্তির আশায় তারা সংঘটিত হয়ে বিপ্লবের পথে অনুপ্রাণিত হয়। ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ফ্রান্সের সামাজিক ব্যবস্থা ছিল ত্রুটিপূর্ণ। বিপ্লব পূর্ববর্তী ফ্রান্সের সমাজ দুভাগে বিভক্ত ছিল। যথা- বিশেষ অধিকারপ্রাপ্ত (Privileged) এবং অধিকারহীন (Unprivileged)। অধিকারভুক্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিল যাজক ও. অভিজাত সম্প্রদায়। আর অধিকারহীন সম্প্রদায় ছিল বুর্জোয়া, শহরের সাধারণ মানুষ, ভাসমান জনতা বা সাঁকুলেৎ, ধনী কৃষক, বর্গাদার ও খেতমজুর। সেই সমাজে সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করত যাজক সম্প্রদায়। গির্জা বা যাজকদের অধিকারে দেশের মোট জমির বিশ ভাগের মালিকানা ছিল। এমনকি এই সম্পদের জন্য তাদের কোনো কর দিতে হতো না। যাজক সম্প্রদায় সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব হতে অব্যাহতি ভোগ করত। ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে ফ্রান্স বিশেষ অধিকারের দেশে পরিণত হয়। যাজক ও অভিজাত শ্রেণির সুবিধা দিতে গিয়ে রাজকর্মচারীরা সর্বদাই বাধাপ্রাপ্ত হতো। তারা দেশের সামরিক ও বেসামরিক চাকরি পাওয়ার একচেটিয়া অধিকার ভোগ করত কিন্তু সরকারকে কোনো কর প্রদান করত না। রাষ্ট্রের সকল কর তৃতীয় সম্প্রদায় তথা অধিকারহীন সম্প্রদায় বহন করত। তৃতীয় সম্প্রদায় সকল প্রকার কর প্রদান করতে গিয়ে ফ্রান্সের শাসনব্যবস্থার ওপর অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন। ফলে ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সে দেখা দেয় এক নজিরবিহীন বিপ্লব যা ইতিহাসে ফরাসি বিপ্লব নামে পরিচিত।