উক্ত বিপ্লবে অর্থাৎ ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবে বুদ্ধিজীবী শ্রেণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে আমি মনে করি।
ফরাসি বিপ্লবে যেসব দার্শনিকের লেখা প্ররোচনা যুগিয়েছিল তাদের মধ্যে ভলতেয়ার, মন্টেঙ্কু, রুশো ছিলেন অন্যতম। হলব্যাখ ঈশ্বর চিন্তা অপেক্ষা বস্তুজগতে মানুষের কল্যাণ চিন্তাকেই প্রাধান্য দেন। তিনি বলেন, "আদিতে মানুষ সুখী ছিল, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনাচারের কারণেই মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বেড়েছে।” ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম মহান নায়ক ছিলেন ভলতেয়ার। তার লেখাগুলোর মধ্যে বিখ্যাত হচ্ছে কাঁদিদ, অধিবিদ্যা, দার্শনিক অভিধান, Oedipe, Element of essays on universal, History. তার লেখায় রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থার দোষত্রুটি সহজ ও ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরেন। তিনি বিভিন্নভাবে রোমান ক্যাথলিক গির্জা এবং যাজকদের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেন। এতে গির্জা এবং যাজকদের প্রতি মানুষের ঘৃণা জন্মাতে তিনি সাহায্য করেন। ফরাসি বিপ্লবের পথ সুগম করার ক্ষেত্রে রুশোর অবদান সবচাইতে বেশি। তার মতে, রাষ্ট্র ঈশ্বরের সৃষ্টি নয়। প্রকৃতির রাজ্যে বসবাসকারী মানুষ একটি চুক্তির -মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করেছে। এভাবে রুশো একদিকে রাজার Divine Right Theory-কে চ্যালেঞ্জ করেন এবং অপরদিকে, স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষকে রুখে দাঁড়াবার প্রেরণা জোগান। এভাবে রুশো ফরাসি জনগণকে এক বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন।
পরিশেষে বলা যায়, ফরাসি দার্শনিকদের লেখনি তৎকালীন সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবর্তনে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল। তাই বলা যায়, ফরাসি বিপ্লবে বুদ্ধিজীবী শ্রেণির অবদান ছিল সর্বাধিক।