উক্ত বিপ্লব অর্থাৎ ফরাসি বিপ্লবের ফলাফল ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব পৃথিবীর ইতিহাসে সংঘটিত সৰ্বাধিক উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর অন্যতম। এটি ফ্রান্সের সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, ধর্মব্যবস্থা আমূল বদলে দেয়। পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রভাব বিস্তার করে। ফরাসি বিপ্লব জরাজীর্ণ পুরনো সামন্ততন্ত্রের বিলোপ সাধনের মাধ্যমে সামন্তপ্রভুদের ভূসম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে কৃষকদের মধ্যে ভূমি বণ্টন করে দেয়। ফরাসি বিপ্লব তাৎক্ষণিকভাবে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের উচ্ছেদ করে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র চালু করে।
ফরাসি বিপ্লবের ফলে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের অবসানের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে অনেকটা গণতান্ত্রিক শাসনের সূত্রপাত ঘটে। এ বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের ইচ্ছার প্রাধান্য স্বীকৃতি লাভ করে। ফরাসি বিপ্লব সামাজিক আচার-আচরণ, পোশাক-আশাকে পরিবর্তন আনয়ন করে। পুরুষরা ব্রিচেস পরা ছেড়ে দিয়ে ট্রাউজার ও কোট এবং মেয়েরা ফোলানো পোশাক ছেড়ে আটসাট ছোট স্কার্ট পরা শুরু করে। ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্রান্স সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ওঠে। ফলে ফ্রান্স ইউরোপীয় রাজনীতিতে একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। ফরাসি বিপ্লব ইউরোপজুড়ে প্ৰভাৰ বিস্তার করতে সক্ষম হয়। সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইউরোপের জনগণ রাজতন্ত্রের বিপরীতে গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হয়। ইউরোপব্যাপী ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ফলে নতুন ইতিহাস শুরু হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ফরাসি বিপ্লব ইউরোপকে আমূল বদলে দেয়, যা ইতিহাসের গতিকে পরিবর্তন করে।