ফরাসি সমাজে বিপ্লবের বেশ আগে থেকেই জ্ঞানদীপ্ত দার্শনিকদের জ্ঞানচর্চা মধ্যযুগীয় ভাবধারার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে একটি আধুনিক সমাজ গড়ার জন্য মানুষকে উজ্জীবিত করতে থাকে। তাদের চিন্তাধারা ফ্রান্সের সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তারাই মধ্যযুগীয় রাজতন্ত্র পরিত্যাগ করে আধুনিক সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে, ফরাসি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার যুক্তি তুলে ধরেন। দার্শনিক ভলতেয়ার ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে গির্জাবিরোধী রচনা লিখে যেভাবে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তা ফরাসি বিপ্লবী যুগে বেশ বড় ধরনের অবদান রেখেছিল। মূলত দার্শনিক হলেও মন্টেস্কুর সংবিধান এবং রাজনীতি বিষয়ক রচনাবলি সে যুগে পাঠকদের ভীষণভাবে উজ্জীবিত করেছিল। লেখনির দ্বারা মন্টেস্কু ফ্রান্সের জনসাধারণের একটি অংশকে রাজনীতি ও সমাজ সচেতন মানবগোষ্ঠীরূপে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন। এজন্য ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দের ফরাসি বিপ্লব পরবর্তী সংবিধানে তার ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ব্যবহারিক প্রয়োগ করা হয়। দার্শনিক রুশোকেই মনে করা হয় ফরাসি বিপ্লবের মূল কারিগর। তিনি তার লেখনির মাধ্যমে ফরাসিদের মনে বিপ্লবের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জাগ্রত করতে সক্ষম হন । রুশো একদিকে রাজার Diving Right Theory কে চ্যালেঞ্জ করেন, অপরদিকে, স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষকে রুখে দাঁড়াবার প্রেরণা যোগান। রুশো তার সামাজিক চুক্তি মতবাদের মাধ্যমে যে ব্যক্তিস্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের কথা বলেন তা ফরাসি জনগণকে এক বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।