ফরাসি বিপ্লবের পূর্ববর্তী ফ্রান্সের সমাজ ছিল মধ্যযুগীয় ও সামন্ততান্ত্রিক। আর অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল দুর্বিষহ।
ফরাসি বিপ্লব কোনো একটি কারণে ঘটেনি। এর পেছনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অনেক কারণ নিহিত ছিল। মূলত, পুরনো ফরাসি সমাজব্যবস্থার মধ্যেই এর প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। পুরনো ফরাসি সমাজ তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যাজক ও অভিজাতরা ছিল যথাক্রমে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। কৃষক, বুর্জোয়া, বণিক, শিক্ষক, শ্রমিকসহ সমাজের অন্য সব গোষ্ঠী ছিল তৃতীয় শ্রেণিতে। যাজক ও অভিজাত শ্রেণি সমাজের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। আর তৃতীয় শ্রেণি সবদিক দিয়ে শোষিত হতো ।
অভিজাতদের একটি অংশ সরকারকে কিছু কর দিলেও যাজক সম্প্রদায় এ কর দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকে। এছাড়া পুরনো ব্যবস্থায় ফ্রান্সের রাজতন্ত্র স্বৈরতান্ত্রিক রূপ ধারণ করে। রাজতন্ত্র ধর্মযাজক ও অভিজাত সম্প্রদায়কে হাতে রেখে দেশের সাধারণ জনগণকে নির্মমভাবে শোষণ করত। রাষ্ট্রে রাজার একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশেষত চতুর্দশ লুই রাজতন্ত্রকে ফ্রান্সে সুসংগঠিত করতে সক্ষম হন। এতে দেশের প্রশাসন, আইন প্রণয়ন ও বিচারকাজে রাজার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ফ্রান্সের সাধারণ মানুষ গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। শহরগুলোতে কাজের সন্ধানে বেকারদের ভিড় বাড়তে থাকে। এসব কারণে ফ্রান্স একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে উঠেছিল। এমন প্রেক্ষাপটে দার্শনিকদের লেখনী বিপ্লবের মঞ্চ প্রস্তুত করার কাজ অনেকখানি এগিয়ে নেয়।