ভাষা আন্দোলনের মতো ফরাসি বিপ্লবও অন্য আরও কারণ দ্বারা প্রভাবিত ছিল- উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শোষণও ভাষা আন্দোলনে পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছিল। আর পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, বিপ্লব পূর্ব ফ্রান্সের রাজতন্ত্র সৈরতান্ত্রিক রূপধারণ করে। রাজতন্ত্র ধর্মযাজক ও অভিজাত সম্প্রদায়কে হাতে রেখে দেশের আইন প্রণয়ন, প্রশাসন পরিচালনা ও বিচারকার্যে রাজার, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনীর সর্বময় ক্ষমতা রাজার হাতে থাকায় যুদ্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা রাজার ইচ্ছা অনিচ্ছার বিষয় হয়ে পড়ে। রাজতন্ত্রের সীমাহীন ক্ষমতার কারণেই ১৬১৪ সাল থেকে ফ্রান্সের স্টেট জেনারেল নামক সর্বোচ্চ প্রতিনিধি পরিষদ অকার্যকর হয়েছিল। প্যারির পার্লামেন্ট এবং রাজকীয় বিচারালয়গুলো স্বৈরাচারী ব্যবস্থার কারণে কোনো স্বাধীন মতামত প্রদান করতে পারত না। রাজার হাতে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ন্যস্ত থাকায় দেশের স্থানীয় শাসন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে পড়ে। সর্বত্রই ব্যক্তিস্বার্থ, স্বেচ্ছাচার, দুর্নীতি ও অমিতব্যয়িতার বিস্তার ঘটার ফলে পুরাতন ব্যবস্থা মানুষের কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে। ফ্রান্সে অর্থনৈতিক সংকট তীব্রতর হতে থাকে। জাতীয় ঋণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। জনগণের নিকট থেকে আদায়কৃত রাজস্বের সবটুকু রাজা নিজের প্রাপ্য বলে মনে করতেন। সামন্ত অভিজাত ও যাজক সম্প্রদায় রাজার পক্ষ থেকে সরাসরি ক্ষমতা হস্তগত করে বংশ কৌলিন্যের জোরে দেশ শাসনের সুবিধা ভোগ করত। এর ফলে শাসনক্ষেত্রে অনাচার দেখা দেয়। এ সময় জনগণের রাজতন্ত্র সম্পর্কে সমালোচনা করার কোনো অধিকারও ছিল না। কেউ রাজ্য শাসন সম্পর্কে সমালোচনা করলে তাকে গ্রেফতার করে বিনা বিচারে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস্তিল দূর্গে আটকে রাখা হতো। এভাবে রাজতন্ত্রের স্বৈরশাসনে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে এবং অধিকারহারা জনতা ফরাসি বিপ্লবের ক্ষেত্র তৈরিতে বিশেষভাবে সচেষ্ট হয়।
সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের মতো ফরাসি বিপ্লবও অন্য কারণ দ্বারা প্রভাবিত ছিল।