উক্ত শাসক অর্থাৎ ষোড়শ লুইয়ের কর্মকাণ্ডই তার দেশে বিপ্লবের সূচনা করেছিল— উক্তিটি যথার্থ নয়।
ফরাসি বিপ্লব ছিল মানবজাতির ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা। যার সাথে সাধারণ জনগণের প্রতি রাজা বা শাসক শ্রেণির শোষণ বা বঞ্ঝনার ইতিহাস জড়িত। এ বিপ্লব শুধু ইউরোপ নয়, বরং সমগ্র বিশ্বে সাড়া জাগিয়েছিল। এ বিপ্লবের মূল ভিত্তি ছিল সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা। রাজতন্ত্রের পরিবর্তে গণতন্ত্র, সামন্ততন্ত্রের পরিবর্তে সমাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্রের পরিবর্তে জনসাধারণের সমান অধিকার, সামাজিক বৈষম্য এবং বিভেদের স্থলে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রতিষ্ঠার জন্য ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতা প্রাপ্তির নীতির ওপর নির্ভর করে চতুর্দশ লুই রাজতন্ত্রের সর্বময় ক্ষমতার আধারে পরিণত করেন। এ ক্ষমতা বোঝাবার জন্য তিনি মন্তব্য করেন; "I am the state" বা আমিই রাষ্ট্র। ষোড়শ লুই তার আত্ম জীবনীতে বিষয়টি আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন এভাবে, “রাজারা হচ্ছেন সর্বময় প্ৰভু, তাদের প্রজাদের সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব করার সকল প্রাকৃতিক অধিকার রয়েছে।” ফলে তাদের হিংসাত্মক কথাবার্তা এবং শোষণ নীতির কারণেই সাধারণ জনগণ আর চুপ থাকেনি। তারা বিদ্রোহ করে তার ভুল প্রমাণের চেষ্টা থেকেই পরবর্তীতে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হয়। এ বিপ্লব মানুষের মধ্যে শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিপ্লবী ভাবধারার উন্মেষ ঘটায়। যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের জনগণকে বিপ্লবী হতে অনুপ্রেরণা যোগায় ।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু ষোড়শ লুইয়ের কর্মকাণ্ডের কারণে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়নি বরং বুরবো রাজাদের স্বৈরাচারী নীতির কারণের জন্যও ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল ।