উক্ত ব্যাংক অর্থাৎ ব্যাংক অব ফ্রান্স (Bank of France) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্র ও প্রজা সাধারণের কল্যাণ সাধন করেছিলেন— উক্তিটি যথার্থ ।
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফ্রান্সের কনস্যালের দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ছিল সামন্ততান্ত্রিক। ফলে ফ্রান্স আর্থিক ও রাজস্ব সংকটে জর্জরিত ছিল। বিপ্লবের পর বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু সংস্কার আনা হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটের কারণে ফ্রান্স আর্থিকভাবে দ্রুত উন্নতি লাভ করতে পারছিল না। নেপোলিয়ন দায়িত্ব দেওয়ার পর আর্থিক ব্যবস্থাকে একেবারে ঢেলে সাজান । তিনি ১৮০০ সালে ব্যাংক অব ফ্রান্স প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যাংকটি ১৮০৩ সালে ব্যাংক নোট প্রবর্তন করেন। সরকারি ঋণ ও কর আদায়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাংকটি ফ্রান্সে আধুনিক অর্থব্যবস্থার সূচনা করে। ফ্রান্সের ভঙ্গুর অর্থব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য তিনি অর্থ দপ্তরকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন। যথা— i. রাজস্ব দপ্তর ও ii. অডিট দপ্তর। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নতুন রাজস্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। একই সাথে জনগণের আর্থিক ক্ষমতার সঙ্গে সংগতি রেখে নতুন করব্যবস্থা চালু করেন। তিনি নতুন করব্যবস্থাকে কার্যকর করতে নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেন। তিনি ব্যাংক থেকে ৬% সুদে ঋণদানের ব্যবস্থা করেন। তার প্রবর্তিত অর্থনৈতিক নীতিমালা ফ্রান্সের অর্থনৈতিক গতিবেগ সৃষ্টি করে, কৃষি ও শিল্পে উন্নতি ঘটে, ব্যবসায় বাণিজ্যে স্থবিরতা কাটতে শুরু করে এবং ফ্রান্সের অর্থনীতি একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আসে। এছাড়া তিনি স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করে ফটকা ব্যবসায়কে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন । উদ্দীপকের বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়, শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিধিবিধান জারির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঠিক তেমনি ব্যাংক অব ফ্রান্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নেপোলিয়ন রাষ্ট্র ও প্রজাসাধারণের কল্যাণ সাধন করেছিলেন।