উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার ভাবী উত্তরাধিকারী ফ্রান্সিস ফার্ডিনান্ড বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে স্ত্রী সোফিয়াসহ আততায়ীর গুলিতে নিহত হলে অস্ট্রিয়া সার্বিয়াকে দায়ী করে। জার্মানির সহায়তা নিয়ে ২৮ জুলাই অস্ট্রিয়া সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও রাশিয়া সার্বিয়াকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসে। ক্ৰমে এ যুদ্ধে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এ যুদ্ধ আমেরিকা ও এশিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে এবং তা বিশ্বযুদ্ধের রূপ পরিগ্রহ করে। সারায়েভোর হত্যাকান্ড এ যুদ্ধের আশু কারণ হলেও এর পিছনে আরও বহুবিধ কারণ বিদ্যমান ছিল। এ যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে একশত বছর ধরে। ফরাসি বিপ্লব ও এ বিপ্লবের প্রতি অপরাপর ইউরোপীয় রাজন্যবর্গের প্রতিক্রিয়া প্রথমে বিশ্বযুদ্ধের বীজ বপন করেছিল। এছাড়াও ভিয়েনা কংগ্রেসের ত্রুটি, উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থান, বাণিজ্যিক ও উপনিবেশ বিস্তারের প্রতিযোগিতা, কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়ামের পররাষ্ট্র নীতি, বিসমার্কের কূটনীতি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেকার কতিপয় আন্তর্জাতিক সংকট ইত্যাদি ছিল প্রথ বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি গ্রামের জমিদার পার্শ্ববর্তী গ্রামে বেড়াতে গেলে সস্ত্রীক তাকে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকে কেন্দ্র করে অনেক দেশ মারাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ রূপধারণ করে। উদ্দীপকের এ ঘটনার সাথে উপরে বর্ণিত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঘটনার মিল রয়েছে।