উদ্দীপকের অঞ্চলের নতুন শাসকের সংস্কার কাজের সাথে ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট-এর মিল রয়েছে।
ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই। তিনি তার উত্তরসূরিদের ন্যায় একনায়ক ও স্বৈরশাসক ছিলেন। তিনি জনগণের মতামত ও অধিকারকে গুরুত্ব দিতেন না। এমনকি জনগণকে করের বোঝা বহন করতে হতো। এমতাবস্থায় ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সের সুবিধাবঞ্ছিত তৃতীয় শ্রেণির জনগণ এক ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাজার পতন ঘটায়। সে সময় নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ইতালিতে যুদ্ধরত ছিলেন। তিনি বিদেশ থেকেই এ বিপ্লবকে স্বাগত জানান। এরপর দেশে ফিরে এক ফ্রান্সের সংকটময় পরিস্থিতি অবলোকন করেন। এ অবস্থায় এক নতুন শাসন প্রবর্তন করেন। এ শাসন ব্যবস্থায় তিনি কনসাল হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর তার ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। অতঃপর ১৮০৪ সালে ফরাসি সিনেট কর্তৃক নেপোলিয়ন সম্রাট পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে ফ্রান্সের প্রাচীন ঘুণে ধরা সমাজকে নতুন রূপদান করার জন্য বিভিন্ন সংস্কার কাজ হাতে নেন। প্রথমে তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজান। এরপর তিনি ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেন। এছাড়াও আইন সংস্কার, শিক্ষা সংস্কার, ধর্ম সংস্কার, বাণিজ্য আইন, শিল্পকলা, ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য রাজস্ব সংস্কার প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য সংস্কার। এ সকল সংস্কারের মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'নর্ভ' নামে একটি অঞ্চলের স্বৈরশাসকের পদচ্যুতি হলে ঐ অঞ্চলের একজন সেনাপতি ক্ষমতায় আরোহণ করেন। ক্ষমতায় আরোহণ করে তিনি বহু সংস্কারের সাধনের মাধ্যমে দেশকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের উত্ত নতুন শাসকের সংস্কারের সাথে নেপোলিয়নের শাসন সংস্কার সাদৃশ্যপূর্ণ।