উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সাথে ফরাসি বিপ্লবের সংগঠনে দার্শনিকদের অবদানের বিষয়ে সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
অষ্টাদশ শতাব্দী ছিল জ্ঞানদীপ্তির শতাব্দী। এ শতাব্দীতে ফ্রান্স তথা ইউরোপে এমন কতিপয় দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে যাদের ক্ষুরধার লেখনী পাঠ করে মানুষ ক্রমেই যুক্তিবাদী হয়ে ওঠে। তারা সমাজে যা ' প্রচলিত তাকে মেনে না নিয়ে এ ব্যবস্থার দোষত্রুটি বিচার করতে শিখে । দার্শনিকগণ রাজার স্বর্গীয় অধিকার তত্ত্বকে যুক্তির দ্বারা আক্রমণ করে এ অভিমত প্রচার করেন যে, “রাজার ক্ষমতা বা কর্তৃত্বের উৎস স্রষ্টা নন, জনগণের ইচ্ছা। তারা এ মত প্রচার করেন যে, প্রকৃতির নিয়মে অধিকারের সাথে কর্তব্যও থাকে। সুতরাং রাজা শুধু অধিকার ভোগ করতে পারেন না, তাকে কর্তব্যও করতে হবে। ফরাসি বিপ্লবের ওপর বিখ্যাত গবেষক লেফেভার বলেন যে, ফরাসি বিপ্লবের দার্শনিকগণ শুধু জাগতিক ও রাষ্ট্রীয় নিয়মকানুনের ব্যাখ্যার মধ্যে তাদের আলোচনা সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাকৃতিক আইনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন । তিনি বলেন, “তারা ছিলেন মানবতাবাদী, যুক্তিবাদী ও সংস্কারে বিশ্বাসী। তারা বিশ্বাস করতেন প্রকৃতি যেমন নিয়মে চলছে তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রকেও নিয়ম মেনে চলা দরকার।” এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মন্টেস্কু, রুশো, ভলটেয়ার, দিদেরো, ডি. এলেমবার্ট প্রমুখ।
উক্ত ব্যক্তিগণ ফ্রান্সের জনগণকে রাজতন্ত্রের নানাবিধ সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন। রাজা ও অভিজাত শ্রেণির সীমাহীন দুর্নীতি তাদের লেখনীতে প্রকাশিত হলে তা জনগণ মন্ত্রবাক্যের মতো গ্রহণ করে। ফলে সফলভাবে ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়।