উক্ত সংস্কার জনৈক শাসককে তথা নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে অমরত্ব দিলেও কিছু অপূর্ণতা ছিল- মন্তব্যটি যথার্থ।নেপোলিয়ন বোনাপার্টের বিভিন্ন সংস্কার তাকে অমরত্ব দিলেও তাতে সীমাবদ্ধতা ছিল। যেমন- প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে ফ্রান্সে প্রশাসনিক ঐক্য ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো শুভ ফল বয়ে আনেনি। প্রিফেক্টদের স্থানীয় ভিত মজবুত না থাকায় তারা নেপোলিয়নের দুর্দিনে কোনো সাহায্য করতে পারেননি। এছাড়া নেপোলিয়নের আইন সংস্কারও ত্রুটিমুক্ত ছিল না। আইনে নারীদের সম্পত্তির অধিকার সংকুচিত করা হয় এবং শ্রমিকের অধিকার সন্নিবেশিত হয়নি। তার শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষের মুক্তচিন্তা ও চেতনার কোনো স্থান ছিল না। সৃজনশীল চিন্তাধারা, মৌলিক সৃষ্টি ও গবেষণাকে উৎসাহ না দেওয়ায় ফ্রান্সে শুধু অধিকসংখ্যক ডাক্তার, প্রকৌশলী, আমলা ও সেনাপতি তৈরি হয় কিন্তু কবি, সাহিত্যিক বা বুদ্ধিজীবী সৃষ্টি হয়নি। সুস্থ সংস্কৃতিও ফরাসি জীবনধারা থেকে নির্বাসিত হয়।নেপোলিয়ন ফরাসি বিপ্লবের শাশ্বত বাণী- সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করলেও বিপ্লবীদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন না। এজন্য তিনি সংবিধান সংশোধনের সুযোগে গণতন্ত্রকে বিদায় দিয়ে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শেষপর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ইউরোপীয় সামরিক জোটের নিকট পরাজিত হতে বাধ্য হন।পরিশেষে বলা যায়, অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে নেপোলিয়ন ফ্রান্সে যে সংস্কার ও উন্নতি সাধন করে অমরত্ব লাভ করেছেন তা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ছিল না। এ কারণে তার শাসনকাল বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।