উদ্দীপকের বিবরণের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ফরাসি বিপ্লবের দিকটা ফুটে উঠেছে।কোনো সমাজব্যবস্থা যখন গতিহীন ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে, তখন সমাজের মধ্য থেকে এমন এক শক্তি জেগে ওঠে যে তার আঘাতে পুরাতনতন্ত্রকে তাসের ঘরের ন্যায় ভেঙে ফেলে। ঘুনে ধরা সমাজকে ভেঙে নতুন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। সমাজের এ মৌলিক পরিবর্তনের নাম 'বিপ্লব। বিপ্লব পূর্ববর্তী ফ্রান্সের সমাজ দুভাগে বিভক্ত ছিল। যথা- ১. বিশেষ অধিকারপ্রাপ্ত শ্রেণি ও ২. অধিকারবিহীন শ্রেণি। যাজক ও অভিজাত শ্রেণি প্রথম স্তরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যাজক ও অভিজাত ছাড়া সমাজের অন্যান্য স্তরের মানুষ অধিকারহীন ছিল যাদের নিয়ে তৃতীয় সম্প্রদায় গড়ে ওঠে। সমাজের মাত্র ৪ শতাংশ ছিল বিশেষ অধিকার প্রাপ্ত, বাকি ৯৬ ভাগ ছিল অধিকারবিহীন সম্প্রদায়। দেশের এ সামাজিক বৈষম্যের অত্যধিক মাত্রা তৎকালীন ফ্রান্সে বিপ্লবের সঞ্চার করে যা ফরাসি বিপ্লব নামে পরিচিত।উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, পুঞ্জীভূত ক্ষোভে জর্জের মতো হাজারো সাধারণ জনতা রাস্তায় নামে এবং তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। সাধারণ জনতার ক্ষোভের এ ঢেউ সমাজের অন্যায় ও জরাজীর্ণতাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমার পাঠ্যবইয়ের ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের দিকটা ফুটে উঠেছে।সুতরাং, উদ্দীপকের কথাগুলো ফরাসি বিপ্লবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।