হ্যাঁ, আমি মনে করি, এ ধরনের আন্দোলনের ফলে ফ্রান্সের জনগণের মাধ্যে শান্তি ফিরে আসে।মানবজাতির ইতিহাসে রুশ বিপ্লব ছাড়া ফরাসি বিপ্লবের মতো এতো ব্যাপক ও গভীর বিপ্লব আর ঘটেনি। এ বিপ্লব দানবীর কাঁটার মতো ফ্রান্সের পুরাতন জরাজীর্ণ ব্যবস্থাকে বিদায় করে দেয় এবং নতুন সমাজব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে। যেমন ফ্রান্সে মধ্যযুগ থেকে সামন্ততান্ত্রিক এবং অভিজাত সমাজব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব এ অসাম্যের ধ্বংস করে এবং একই বছর ১৩ আগস্ট ফরাসি বিধানসভা সকল প্রকার সামন্ত কর ও সামন্ত স্বত্ববিলোপ সাধন করে। ফলে সামাজিক সাম্য স্থাপিত হয়। সামন্তপ্রথা বিলোপের ফলে ফ্রান্সে স্বাধীন কৃষকগণ সামন্তদের বাজেয়াপ্ত ভূমি ক্রয় করে ধনী হয়। তারা ভূমিদাস শ্রেণি হতে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জনের সুযোগ পায়। তাছাড়া শহরের সর্বহারা দিনমজুরদের সাঁকুলেৎ বলা হতো। ফরাসি বিপ্লবের ফলে এ দিনমজুরদের তেমন কোনো স্থায়ী উপকার হয়নি। মুক্ত অর্থনীতির ফলে ক্ষুদ্র শিল্প ও ছোট দোকানদারদের উপকার হলেও শহরের সাঁকুলেরা উৎসাহিত হয়। ফরাসি বিপ্লব আসলে ছিল বুর্জোয়া বিপ্লব। ফরাসি বিপ্লবে সমাজে যে নতুন ফসল ফলে তা বুর্জোয়া শ্রেণিই ঘরে তোলে। পুঁজিবাদী বুর্জোয়া শ্রেণি আবার সে সম্পত্তির ভিত্তিতে ভোটাধিকার স্থাপন করে। জাতীয় সম্পত্তির ক্রয়-বিক্রয়, যুদ্ধের ঠিকাদারি ও ফটকাবাজিতে তাদের হাতে অনেক অর্থ আসে। ফরাসি বিপ্লবের ফলে বংশানুক্রমিক ফরাসি রাজতন্ত্রের আদর্শের ভিত্তি চিরতরে বিনষ্ট হয়। ডাইরেক্টরি আমলে ভোটাধিকার সংকুচিত হলেও প্রজাতন্ত্রের আদর্শ চালু থাকে। কিন্তু নেপোলিয়ান বংশানুক্রমিক শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বুরবোঁ রাজারাও রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। মোটকথা, ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে গণতন্ত্রের আদর্শ জয়লাভ করে। এছাড়াও ফরাসি বিপ্লবের ফলে নতুন পোশাকের প্রচলন হয়। পুরুষেরা ব্রিচেস পরা ছেড়ে ট্রাউজার ও কোট পরা শুরু করে। নারীরা কোমর ফোলানো মাটি ছাপানো স্কাট ছেড়ে আঁটসাঁট ছোট স্কার্ট পরতে আরম্ভ করে। পুরুষ মানুষেরা তিন রঙা পোশাক ও লাল টুপি পরতে শুরু করে।উপরিউক্ত আলোচনায় শেষে বলা যায়, ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয় এবং শান্তি ফিরে আসে।