উদ্দীপকে উল্লিখিত জেবুন্নেসা বেগম কর্তৃক ভারী শিল্প কারখানা গড়ে তোলার কারণে লাগোয়া গ্রামীণ সমাজে ব্যাপক নেতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হবে।
গ্রামীণ সমাজে কুটির শিল্প কারখানাগুলো স্থানীয় চাহিদা মেটানোর কাজ করে। কামার, কুমার ও তাঁতিরা তাদের উৎপাদিত পণ্যদ্রব্য স্থানীয় চাহিদা মেটানোর কাজে সরবরাহ করে। এ থেকে আর্জিত আয়ে তাদের সংসার চলে। কিন্তু জেবুন্নেসা বেগম যখন ভারী কারখানায় বিপুল পরিমাণ মূলধন ও কাঁচামাল নিয়ে শিল্প উৎপাদনে মনোযোগী হবেন, তখন এ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মালিকের পক্ষে তার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না। কামার, কুমার ও তাঁতিরা হাতে উৎপাদিত পণ্যদ্রব্য বিক্রি করে যখন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে হেরে যাবে, তখন তাদের এ শিল্পসমূহ কন্ধ করে দেওয়া ছাড়া। কোনো উপায় থাকবে না। ফলে তারা বেকার হয়ে যাবে এবং অনেকে হয়তবা জেবুন্নেসার কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ নেবে। এভাবে যারা একসময় কুটির শিল্পের মালিক ছিল, তাদেরকে ভারী শিল্পের শ্রমিকের পথ বেছে নিতে হবে। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করবে আবার আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সমাজে অস্থিতিশীলতা, অন্যায় ও অপরাধ বাড়তে পারে। সার্বিক বিবেচনায় এটি এ গ্রামগুলোর জন্য অভিশাপ বয়ে আনবে।