আমার মনে হয়, উক্ত প্রতিযোগিতা তথা একই পণ্যের বাজার প্রতিযোগিতা ছাড়াও হালিম, মিলন ও জসিমের বাণিজ্যের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
হালিম, মিলন ও জসিম এরা তিন জন দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামারের মালিক। উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বাজার সংকটের কারণে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু তারা যদি এর চেয়ে ভিন্নভাবে ব্যবসায় করতে চায় তবে তা আরও ভালো ফল দিতে পারে। দুধ কৃষিজ উৎপন্ন একটি প্রাথমিক পণ্য। এটি সরাসরি খাবার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। আবার এটিকে বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। দুধ থেকে দই, পনির, মাখন, মিষ্টি, ছানা ইত্যাদি বিভিন্ন দ্রব্য তৈরি করা যায়। এরা তিন জন তাদের উৎপন্ন দুধকে এসব পণ্যে রূপান্তরিত করে বাজারজাত করে লাভবান হতে পারে। যেমনটি দেখা যেত শিল্প বিপ্লবের পূর্বে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। ইংল্যান্ডে ভালো তুলা উৎপন্ন হতো। প্রাথমিক দ্রব্য এ তুলা তাদের চাহিদা মিটিয়ে বেশি হলেও যখন তারা তুলা থেকে সুতা ও কাপড় তৈরি করে বাজারজাত করা শুরু করে, তখন বরং তুলার চাহিদা আরও বেড়ে যায়। অথচ এর পূর্বে তাদের উৎপাদিত তুলা তারা রপ্তানি করতে পারত। একই পদ্ধতি মিলন, হালিম ও জসিম গ্রহণ করতে পারে। এতে তাদের আয় যেমন বাড়বে ব্যবসায়ও ততটা সমৃদ্ধ হবে। এমনও হতে পারে যে, হালিম মিষ্টি তৈরির কারখানা স্থাপন করে মিলন ও জসিমের খামারের দুধও কিনে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে তাদের বাজার দখলের প্রতিযোগিতার পরিবর্তে ব্যবসায়িক অগ্রগতিই মুখ্য হয়ে উঠবে।