লোকমান সাহেবের দেশের বস্ত্র শিল্প গড়ে ওঠার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্র শিল্প গড়ে ওঠার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের আলোচনায় বলা যায়, লোকমান সাহেবের দেশে প্রচুর তুলা উৎপাদিত হতো। এ তুলার ওপর ভিত্তি করে দেশে প্রচুর পরিমাণ বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠে। তবে পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তির অভাবে অল্পদিনের মধ্যেই এ শিল্প মার খেতে শুরু করে। লোকমান সাহেবের দেশের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার এ ঘটনার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব ঘটে বস্ত্র খাতে। ইংল্যান্ডে আবহাওয়াগত কারণে বস্ত্র উৎপাদনের ব্যাপক তাগিদ ছিল। তাই সুতাকাটা ও বয়নের জন্য প্রথম যন্ত্রের ব্যবহার ঘটে। একটির পর একটি আবিষ্কার অল্পদিনের মধ্যেই বস্ত্রশিল্পে যথার্থ বিপ্লব ঘটাতে থাকে। শুধু যন্ত্রের আবিষ্কারই নয়, উৎপাদনে তা প্রয়োগের ফলে কারখানার প্রসার ঘটে বেশ দ্রুত। ইংল্যান্ডে অসংখ্য শ্রমিক বিভিন্ন কারখানায় যুক্ত হয়। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবার ফলে কারখানাগুলো দেশীয় চাহিদা পূরণ করে। অতিরিক্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করতেও সক্ষম হয়।
উপরিউক্ত আলোচনায় দেখা যায়, লোকমান সাহেবের দেশ ও ইংল্যান্ডের বস্ত্র শিল্পের উদ্ভব একই প্রক্রিয়ায় ঘটে। সুতরাং বলা যায়, লোকমান সাহেবের দেশে বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাথে ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্প গড়ে ওঠার সাদৃশ্য লক্ষণীয়।