উদ্দীপকে যান্ত্রিক কলাকৌশলের দ্বারা ইংল্যান্ড বিশ্বে ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়টিকে অত্যন্ত সঠিক বলে আমি মনে করি।
ইংল্যান্ডে বিভিন্ন যান্ত্রিক আবিষ্কার শিল্প বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করে। বস্তু, গ্যাস, জুতা, আটা, ময়দা, মাদকদ্রব্য ইত্যাদির উৎপাদন বেড়ে যায়। এভাবে গড়ে উঠতে থাকে ছোট, মাঝারি ও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠিত হয় নতুন নতুন শিল্প শহর। উনিশ শতকে ইংল্যান্ডে বিপুল সংখ্যক ভারী শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে। সাথে বাণিজ্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা, নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি ও পুঁজির লেনদেন বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বড় বড় কারখানায় মূলধন খাটিয়ে প্রচুর পণ্যসামগ্রী উৎপাদন শুরু করে। এসব শিল্পজাত দ্রব্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতে থাকে। অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগ হতে ইংল্যান্ডের ঔপনিবেশিক বাণিজ্যের অগ্রগতি হয়। ইংল্যান্ড ভারতসহ তার সকল উপনিবেশগুলোতে তার পণ্যসামগ্রীর একচেটিয়া বাজার সৃষ্টি করে। তখন ইংল্যান্ডকে বলা হতো পৃথিবীর কর্মশালা। কারণ তখন দৈনন্দিন খুঁটিনাটি ব্যবহার্য জিনিসপত্র থেকে বড় বড় ভোগ্যপণ্য জিনিসও ব্রিটিশরা উৎপাদন করতে থাকে। ফলে দেশটি অল্প সময়ের মধ্যেই পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশে পরিণত হয়। ইংল্যান্ড গোটা উনিশ শতক, এমনকি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় পর্যন্ত পৃথিবীর প্রধান ধনী দেশ হিসেবে বিবেচিত ছিল।