উদ্দীপকে উল্লিখিত জমি ইজারা দেওয়ার সাথে রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারে গৃহীত 'মির' বা গ্রাম সমিতি প্রথার প্রবর্তনের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতবর্ষে ভূমিব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনান ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য জমি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর উদ্দেশ্য সৎ হলেও ইজারাদাররা বেশি রাজস্ব আদায়ের জন্য কৃষকদের ওপর নির্যাতন চালাত। হেস্টিংসের এই উদ্যোগে ব্যর্থ হলে কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমিদারদের সাথে চুক্তি করেন। এতে জমিদাররা ভূমির মালিক ও কৃষকেরা রায়তে পরিণত হয়। পাঠ্যবই হতে জানা যায় জমিদারদের দাসত্ব থেকে সাফ বা কৃষকদের রক্ষা করার জন্য জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার সাফ প্রথার উচ্ছেদ সাধন করে 'মির' নামক গ্রাম্য সমিতির তত্ত্বাবধানে তাদের জমিগুলো ন্যস্ত করেন। কিন্তু রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ভূমিদাস প্রথার বিলোপ সাধন করলেও ভূমিদাসগণ স্বাধীন কৃষকে রূপান্তরিত হতে পারেনি। এরা ভূমিদাস থেকে ভূমিহীন শ্রেণিতে পরিণত হয়েছিল মাত্র। সামন্তপ্রভুদের হাত থেকে গ্রামীণ সংস্থা 'মির'-এর অধীনে ন্যস্ত হলেও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। দেখা যায়, পরবর্তীকালে 'মিরগুলোর' আধিপত্য দ্রুত বৃদ্ধি পেলে কৃষকদের নিকট তা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। তারা 'মিরগুলোর' শোষণনীতি ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং শেষপর্যন্ত মিরগুলোর আধিপত্য থেকে কৃষকরা মুক্তিলাভ করে। অর্থাৎ জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার কর্তৃক 'মির' বা গ্রাম্য সমিতির ওপর ন্যস্ত করা ভূমি অধিকার আইন প্রবর্তিত হলেও কৃষকদের 'সৃষ্ট ভূমি সমস্যা' অমীমাংসিত থেকে গিয়েছিল। সার্বিক আলোচনায় এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে উদ্দীপকে উল্লিখিত জমি ইজারা দেওয়ার সাথে রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার গৃহীত 'মির' প্রথার সাদৃশ্য রয়েছে।