উদ্দীপকের জমি ইজারা দেওয়ার সাথে পাঠ্যবইয়ের 'মির' নামরু গ্রাম্য সমিতির তত্ত্বাবধানে জমি ন্যস্ত করার পদক্ষেপের সাদৃশ্য রয়েছে।উদ্দীপকের ওয়ারেন হেস্টিংস ভূমিব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে জমি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার এই উদ্দেশ্য সৎ হলেও ইজারাদার বেশি রাজস্ব আদায়ের জন্য কৃষকদের উপর নির্যাতন নেমে আসে। ফলে এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে কর্নওয়ালিশ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমিদারদের সাথে চুক্তি করেন। এতে জমিদারগণ ভূমির মালিক ও কৃষকরা রায়তে পরিণত হন। অন্যদিকে, পাঠ্যবইয়ের প্রাক-বলশেভিক বিপ্লবের সময়ে কতিপয় ভূস্বামীদের অধীনে সার্ফ বা কৃষকরা বসবাস করত। তারা জমিদারদের ভূমি কর্ষণ। করে জীবিকা নির্বাহ করত। তাদের কোনো ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিল না। ভূস্বামীরা কৃষকদের দাসত্বে পরিণত করে। কৃষকদের এই নির্যাতন, দাসত্ব থেকে রক্ষা করার জন্য জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার সার্ফ প্রথা উচ্ছেদ করে 'মির' নামক গ্রাম্য সমিতির কাছে জমিগুলো হস্তান্তর করে। যাতে করে কৃষকরা নির্যাতন থেকে বাঁচতে পারে এবং কৃষিতে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় মিরগুলোর আধিপত্য দ্রুত বৃদ্ধি, পেলে কৃষকদের নিকট তা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। তারা মিরগুলোর শোষণ ও. নির্যাতন দ্বারা আবদ্ধ ছিল্ ফলে কৃষকদের সীমাহীন দুরাবস্থা নিরসনকল্পে ১৮৬১ সালে ভূমিদাস রদ আইন পাস করা হয়।সুতরাং বলতে পারি যে, উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের 'মির' সমিতির জমি হস্তান্তরের পদক্ষেপের সাদৃশ্য রয়েছে।