১৯১৭ সালে ইউরোপের দেশ রাশিয়ায় সংঘটিত উক্ত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও তার সাম্যবাদী চেতনা পৃথিবীব্যাপী ব্যাপক বিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল বলে আমি মনে করি।কেননা, বিপ্লবের সফলতার পর এ বিপ্লব শুধু রাশিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং রাশিয়ার বৃহত্তম ভূখণ্ড ছাড়িয়ে এ বিপ্লব পূর্ব ইউরোপ, এমনকি ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আধুনিককালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আড়ালে সমাজতন্ত্রের উপস্থিতি ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সচেষ্ট বাসনা লক্ষণীয়। এ বিপ্লবের সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদ বনাম সমাজতন্ত্রের আদর্শিক সংঘাত। এ সংঘাতকে পুঁজি করে প্রায় অর্ধ শতাব্দীব্যাপী ইউরোপে একটি স্নায়ুযুদ্ধও চলমান ছিল। ১৯৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটলেও বিংশ শতাব্দীজুড়ে ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়ার উর্বর ভূখণ্ডে সমাজতন্ত্রের যে নিপীড়িত জনতার প্রত্যাশার বীজ বপন করা হয়েছিল তা আশ্রয়, ছায়া আর নিপীড়িতের বিপ্লবের জ্বালানি হিসেবে স্বৈরাচারের পতনের বিরুদ্ধে ইন্ধন জুগিয়ে আসছে। একই ঘটনা পুঁজিবাদী বিশ্বকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলেছে। তাই স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পরও ২০২২ সালে এসে ইউক্রেনকে জিম্মি করে নতুনভাবে পুরাতন বিদ্রোহের আগুনে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।সুতরাং আলোচনার আলোকে উল্লিখিত সাম্যবাদী চেতনা যে পৃথিবীব্যাপী সুবিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী একটি প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।