উদ্দীপকে আমার পঠিত রুশ বিপ্লবের দার্শনিকদের প্রভাবের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।উনিশ শতকে জার্মানিতে জাতীয়তাবাদের স্ফূরণ এবং জার্মানির পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পিছনে' যেমন জার্মান বৃদ্ধিজীবী শ্রেণির অবদান ছিল অপরিসীম তেমনি রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লবের বেলায়ও এ বিষয়টি লক্ষ করা যায়। বিপ্লবের পূর্বে সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার বিকাশে কালজয়ী ভূমিকা পালন করেছিল জার্মান সমাজতন্ত্রী কার্ল মার্কসের লেখনী। ব্রিটিশ সমাজতন্ত্রী চার্লস ওয়েন, ফরাসি সমাজতন্ত্রী সেইন্ট সাইমন, চার্লস ফুরিয়ার, লুইস ব্লাংক, প্রুধো, রাশিয়ার সমাজতন্ত্রী মিখাইল বাকুনিন, ক্রপোৎকিন প্রমুখ দার্শনিকের লেখনীর মধ্য দিয়ে উনিশ শতকে 'সমাজতন্ত্র' একটি রাজনৈতিক আদর্শে পরিণত হয়। কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক অ্যাঙ্গেলস এ আদর্শকে বৈজ্ঞানিক পন্থায় সুসংহতভাবে উপস্থাপন করেন। রুশ সাহিত্যিক পুসকিন, লিও টলস্টয়, দস্তয়েভস্কি, ইভান তুর্গনেভ প্রমুখের লেখায় জার শাসনের স্বেচ্ছাচারিতা, শোষণ, নির্যাতন আর অত্যাচারের ছবি সাধারণ মানুষের সামনে ভেসে উঠলে রাশিয়ার জনতার মাঝে 'জারবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি হয়। অতঃপর মহামতি লেলিন তার এপ্রিল থিসিস-এর মাধ্যমে শ্রমিক কৃষককে বিপ্লবের উপযুক্ত সময় ও কর্মকৌশল সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিলে রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, রুশ বিপ্লব বা বলশেভিক বিপ্লবের অনুপ্রেরণা সৃষ্টিতে দার্শনিকগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।