উদ্দীপকের সংগ্রামের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের বলশেভিক বিপ্লবের মিল আছে।
বিশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের আগে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ সম্রাট তথা জার ও অভিজাতদের হাতে শোষণের শিকার হয়ে আসছিল। বিশেষ করে শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণি এবং সাধারণ সৈনিক শ্রেণির মানুষের ন্যূনতম সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার ছিল না। এই অবস্থা থেকে ১৮৯৮ সালে বিপ্লবী দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠন করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে রাজনৈতিক এ সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে লেনিন বিপ্লবের জন্য তার দলকে প্রস্তুত করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ও সামরিক দুর্ভোগ রাশিয়ার কৃষক, শ্রমিক ও সৈনিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। এরই ফলশ্রুতিতে লেনিনের নেতৃত্বে শ্রমিক, কৃষক ও সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে এবং অবশেষে ১৯১৭ সালে বলশেভিক বা রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকের তারাপুর অঞ্চলের জনগণ সে এলাকার মাতব্বর, মেম্বারদের শোষণ-বৈষম্য ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেয়। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ সংগ্রামে এলাকার অনেক লোক জীবন বিসর্জন দেয়। অবশেষে এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত হয়। বলশেভিক বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিল কার্ল মার্কসের লেখনী। এছাড়া লেনিন, ট্রটস্কি, লিও টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের সংগ্রামের সাথে বলশেভিক বিপ্লবের মিল রয়েছে।