উক্ত সংগঠন অর্থাৎ লীগ অব নেশনসের ব্যর্থতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে বলে আমি মনে করি ।
লীগ অব নেশনস বা জাতিপুঞ্জ গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। জাতিপুঞ্জ গঠিত হওয়ার পরে প্রথম দশকে সংগঠনটি শান্তিপূর্ণ উপায়ে অনেক বিরোধের নিষ্পত্তি করে এক নবযুগের সূচনা করেছিল। জাতিপুঞ্জের সাফল্যের মধ্যে কয়েকটি হলো- আল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে সুইডেন-ফিনল্যান্ড বিরোধ নিষ্পত্তি; সাইলেশিয়া নিয়ে পোল্যান্ড-জার্মানির বিরোধ নিষ্পত্তি; করফুর নিয়ে গ্রিস-ইতালির বিরোধ নিষ্পত্তি; গ্রিস-বুলগেরিয়া সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি প্রভৃতি। এছাড়া জাতিপুঞ্জ গঠনের পর নিরস্ত্রীকরণের উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘ এক দশক সংস্থাটি পৃথিবীকে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে রক্ষা করেছিল, যা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য । পৃথিবীর জনসমাজকে আন্তর্জাতিক সমবায়, সৌহার্দ্য ও সাহায্য- সহযোগিতার প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছিল। আন্তর্জাতিকতার প্রয়োজনে জাতীয়তাবাদী মনোবৃত্তি কতটুকু দমন করা উচিত, সে শিক্ষা দিয়েছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশে প্রচুর ঋণদান করে অর্থনৈতিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করা ছিল জাতিপুঞ্জের একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। তবে জাতিপুঞ্জের গৃহীত এসকল পদক্ষেপ পরবর্তীতে ব্যর্থতার চাদরে ঢাকা পড়ে যায়। কেননা, জাতিপুঞ্জ গঠনের এক যুগ যেতে না যেতেই ব্যর্থতার পরিচয় দিতে থাকে। মাঞ্চুরিয়াকে কেন্দ্র করে চীন ও জাপানের বিরোধ নিষ্পত্তিতে জাতিপুঞ্জ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়। ঠিক একইভাবে ইতালি-ইথিওপিয়ার মধ্যে যুদ্ধ সৃষ্টি হলে জাতিপুঞ্জ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স ইতালির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ ঘোষণা করলে ইতালি জাতিপুঞ্জের সদস্যপদ ত্যাগ করে। এভাবে লীগের ব্যর্থতার ফলে যৌথ নিরাপত্তা নীতির অবসান হতে থাকে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি তৈরিতে ভূমিকা রাখে ।
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিপুঞ্জ প্রাথমিক সফলতার পরিচয় দিলেও পরবর্তীতে ব্যর্থতার কারণে বিশ্বে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয় ।