উদ্দীপকে উল্লেখিত সন্ধির সাথে পাঠ্যবইয়ের ভার্সাই সন্ধির সাদৃশ্য বা মিল রয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হলে বিজয়ী বিশ্বশক্তিজোট (ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া ইত্যাদি দেশ) ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে জার্মানির সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ইউরোপের ইতিহাসে এটিই ভার্সাই সন্ধি (The Treaty of Versailles) নামে পরিচিত। এ সন্ধিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য জার্মানিকে এককভাবে দায়ী করে যুদ্ধের সব দায়-দায়িত্ব তাদের ওপর চাপানো হয়, যা পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বিংশ শতকের প্রথম দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়; যা পরাজিত জোটকে অপমানিত করে। এই পক্ষপাতদুষ্ট সন্ধির খেসারত বিশ্বের মানুষকে পুনরায় দিতে হয়েছিল। এটি ভার্সাই সন্ধির ইঙ্গিত দেয়। কারণ ১৯১৮ সালের ১৪ নভেম্বর জার্মানির যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। এরপর শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৯১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি ফ্রান্সের প্যারিসে ৩২টি দেশের অংশগ্রহণে শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনের ৩টি নীতির ওপর ভিত্তি করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী ও বিজিত দেশগুলো ফ্রান্সের ভার্সাই শহরে ৫ টি সন্ধিতে স্বাক্ষর করে। এটি ভার্সাই সন্ধি নামে পরিচিত। এ সন্ধিকে অনেকেই বিতর্কিত ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করেন। কারণ এ চুক্তিতে যুদ্ধের জন্য এককভাবে জার্মানিকে দায়ী করে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির মূল্য হিসেবে তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। জার্মানির সামরিক শক্তিও খর্ব করা হয়। জার্মান জনগণের মধ্যে বিষয়টি ক্ষোভের জন্ম দেয়, যা তাদেরকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে তোলে। এ ক্ষোভ থেকেই জার্মানরা আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নেয়, যা বিশ্ববাসীকে আরও একটি ভয়াবহ যুদ্ধের সম্মুখীন করে।
সুতরাং উদ্দীপকের সন্ধি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জার্মানির সাথে মিত্রশক্তির স্বাক্ষরিত ভার্সাই সন্ধির কথাই মনে করিয়ে দেয়।