উক্ত যুবরাজের হত্যাকাণ্ডই ছিল এ যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ। তবে এর সাথে আরও কিছু বিষয় এ যুদ্ধের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল। ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত চলা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ব্যাপ্তি, ধ্বংসযজ্ঞ ও হতাহতের সংখ্যা অতীতের সব যুদ্ধকে হার মানিয়েছিল। এ যুদ্ধের কারণগুলোর মধ্যে ছিল বিকাশমান পুঁজিবাদের দ্বন্দ্ব, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের সংঘাত, সামরিক যুদ্ধ শিবিরে বিভক্ত বিশ্ব পরিস্থিতি ইত্যাদি । তবে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফার্ডিনান্ড ও তার স্ত্রী সোফিয়ার হত্যাকাণ্ডে এ যুদ্ধের সূচনা হয়। ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফার্ডিনান্ড সস্ত্রীক অস্ট্রো-হাঙ্গেরি শাসিত বসনিয়ার সারায়েভো ভ্রমণকালে সার্ব আততায়ীর হাতে নিহত হন। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অস্ট্রিয়া সার্বিয়াকে সম্পূর্ণ দায়ী করে ২৮ জুলাই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। পূর্বে সম্পাদিত মৈত্রী চুক্তি 'ত্রিশক্তি জোট' অনুযায়ী জার্মানি অস্ট্রিয়াকে সমর্থন জানায়। অন্যদিকে ফ্রান্স ও রাশিয়া সার্বিয়াকে রক্ষার জন্য এগিয়ে যায়। পরে ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্রও এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ভয়াবহ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একজন যুবরাজের হত্যাকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো দেশ মারাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যা উপরে আলোচিত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধের সাথে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মিল রয়েছে।