উদ্দীপকের সংগঠনের ব্যর্থতার মাঝে উক্ত বিশ্ব সংস্থা তথা লীগ অব নেশনস-এর ব্যর্থতার সকল কারণ প্রতিফলিত হয়নি— বক্তব্যটি যথার্থ।
জাতিপুঞ্জ বা লীগ অব নেশনস গঠিত হওয়ার পরে প্রথম দশকে সংগঠনটি শান্তিপূর্ণ উপায়ে অনেক বিরোধের নিষ্পত্তি করে এক নবযুগের সূচনা করেছিল। কিন্তু জাতিপুঞ্জ গঠনের এক যুগ যেতে না যেতেই সংস্থাটি ব্যর্থতার পরিচয় দিতে থাকে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল। প্রথমত, বিজয়ী রাষ্ট্রসমূহের প্রতি বিজিত রাষ্ট্রসমূহের সন্দেহ এবং জার্মানির প্রতিরোধমূলক মনোভাব লীগের কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে পরিচালনার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করেছিল। দ্বিতীয়, বিজয়ী ও বিজিত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ব্যাপক মতানৈক্য ছিল। এছাড়া লীগ অব নেশনস এর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জার্মানিকে সর্বতোভাবে দাবিয়ে রাখার প্রবণতা ছিল, যা সংগঠনটির নৈতিক মর্যাদা বিনষ্ট করে। তৃতীয়ত লীগের সদস্যদের মধ্যে সবার সমান অধিকার ছিল না। লীগের অস্থায়ী সদস্যদের তুলনায় স্থায়ী সদস্যদের বেশি ক্ষমতা ছিল। তাই বিশ্ব স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় লীগ অব নেশনস শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। চতুর্থত, চুক্তিপত্রের নিরাপত্তামূলক শর্তগুলোর মধ্যে বহু ত্রুটি ছিল। লীগের হাতে আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা না থাকায় আক্রমণকারীরা সংগঠনটির নির্দেশ উপেক্ষা করতে পারত।
এছাড়া মাঞ্চুরিয়াকে কেন্দ্র করে চীন ও জাপানের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে জাতিপুঞ্জ শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। ঠিক একইভাবে ইতালি ও ইথিওপিয়ার মধ্যে যুদ্ধ সৃষ্টি হলে কার্যকর লীগ ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এভাবে লীগের ব্যর্থতার ফলে যৌথ নিরাপত্তা নীতির অবসান হতে থাকে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি তৈরিতে ভূমিকা রাখে ।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের প্রাধান্য নয়, বরং লীগ অব নেশনসের ব্যর্থতার পেছনে আরও নানাবিধ কারণ ছিল ।