বর্ণিত যুদ্ধে তথা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী শক্তির সাফল্যের পেছনে তাদের বৃহৎ সামরিক শক্তি, নৌযুদ্ধে ব্যাপক পারদর্শিতা, মার্কিন যুক্তরাষ্টের অংশগ্রহনসহ নানাবিধ কারণ বিদ্যমান।
১৯১৪-১৯১৮ সাল পর্যন্ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয় । এ যুদ্ধে অক্ষশক্তি বা পরাজিত শক্তি ছিল জার্মানি, অস্ট্রো- হাঙ্গেরি, তুরস্ক, বুলগেরিরয়া ইত্যাদি দেশ। অপরদিকে বিজয় শক্তি বা মিত্রশক্তিতে ছিল ব্রিটেন, মার্কিন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া ইত্যাদি বৃহৎ সামরিক শক্তিধর দেশ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্র শক্তির বিজয় এবং জার্মান পক্ষের পরাজয়কে অনেকগুলো কারণ দ্বারা বিশ্লেষণ করা সম্ভব । প্রথমত, সমরশক্তিতে সমৃদ্ধ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও জার্মানদের সামরিক শক্তি মিত্রপক্ষের সম্মিলিত সামরিক শক্তির তুলনায় বেশ দুর্বল ছিল। যেমন: ব্রিটেনের নৌশক্তি ইউরোপের যেকোনো দেশের তুলনা শ্রেষ্ঠ ছিল। আর এর সাথে ফ্রান্সের নৌবহর যুক্ত হাওয়ায় মিত্রপক্ষের শক্তি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে । দ্বিতীয়ত: তারা ভূমধ্যসাগরের বিরুদ্ধে অবরোধের মাধ্যমে জার্মান নৌশক্তির রসদ সরবরাহ ভেঙ্গে দিতে সমর্থ হয়। এই কৌশলগত বিজয়ে মিত্রশক্তি যুদ্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়। তৃতীয়তঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষতা ভেঙ্গে মিত্রশক্তিতে যোগ দিলে অক্ষশক্তি সামরিক শক্তিতে আরো পিছিয়ে পড়ে। এতে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায় । অক্ষশক্তির দেশগুলোর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ১৮১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে।
আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, শুরুতে অক্ষশক্তি যুদ্ধে বেশ অগ্রগতি অর্জন করলেও মিত্রশক্তি তাদের কৌশলগত আক্রমণের মাধ্যমে বিজয় অর্জনে সমর্থ হয়।