উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের সালিসের সাথে আমার পঠিত ভার্সাই সন্ধির ঘটনার সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সকল দায় জার্মানির ওপর চাপিয়ে দিয়ে মিত্রপক্ষ পরাজিত দেশগুলোকে ১৯১৯ সালের ভার্সাই রাজপ্রাসাদে এক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানায়। যাকে বহুলভাবে ভার্সাইয়ের শান্তি সম্মেলন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এ শান্তি সম্মেলনে বিশ্বের ৩২টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। যেসব দেশ এ সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠায়, তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। শান্তি বৈঠকের প্রধান সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার দায়িত্ব বর্তায় তিন প্রধানের ওপর। তারা ছিলেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেনস্যু, ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লয়েড জর্জ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন। শান্তি স্থাপনের জন্য তারা চৌদ্দ দফার মাধ্যমে যে আদর্শবাদী পরিকল্পনা পেশ করেছিলেন তা অন্যান্য মিত্রশক্তি (বিশেষত ফ্রান্স) মানতে রাজি ছিল না। ফলে প্রেসিডেন্ট উইলসন অনেক ক্ষেত্রে আপস করতে বাধ্য হন। ফলে শান্তিচুক্তিতে আদর্শবাদের পরিবর্তে প্রতিশোধ নেওয়ার ও সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ইচ্ছা প্রাধান্য পায়।
শান্তি সম্মেলনে বিশ্বকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করতে জাতিপুঞ্জ নামে একটি আন্তর্জাতিক সংঘ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।