উদ্দীপকে ভাসাই সন্ধির (The Treaty of Versailles, 1919) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হলে বিজয়ী জোট জার্মানিকে (১৯১৯ সালে) যে সন্ধি করতে বাধ্য করে, তাই ভার্সাই সন্ধি নামে পরিচিত। আর উদ্দীপকে এ সন্ধিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপীয় শক্তিবর্গের এবং জনসাধারণের মধ্যে জার্মানির বিরুদ্ধে যে তীব্র ঘৃণার সৃষ্টি হয় তার প্রেক্ষাপটে ভার্সাই সন্ধি হয়। এছাড়া পরাজিত শত্রুর প্রতি মর্যাদা প্রদর্শনের বিবেচনা ইউরোপের বিজয়ী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ছিল না। ভবিষ্যতে যাতে জার্মানি শক্তিশালী হয়ে ইউরোপের শান্তি ভঙ্গ করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই ভার্সাই সন্ধির ধারা রচিত হয়। ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে শত্রুতা ছিল বহু পুরনো। প্যারিস শান্তি সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রতিনিধি জার্মানির ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পঙ্গু করে দেওয়ার আবহ সৃষ্টি করে। ব্রিটেন চেয়েছিল একটি | আগ্রাসী সামরিক রাষ্ট্র হিসেবে জার্মানির পুনরুত্থানকে অক্ষম করে তোলা এবং ইউরোপে ব্রিটেনের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা। অন্যদিকে, ইতালি জার্মানির উপনিবেশ লাভ করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে তার দেশের স্বার্থ আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। যার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে ভার্সাই সন্ধিতে। এছাড়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে জার্মানি অর্থনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্র ছিল। সেসময় খনিজ সম্পদেও জার্মানি অনেক সমৃদ্ধ ছিল। মিত্রশক্তি ক্ষতিপূরণ আদায়ের নামে জার্মানির খনিজ অঞ্চলগুলো দখল করা ছিল ভার্সাই সন্ধির অন্যতম কারণ।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বিভিন্ন কারণে জার্মানিকে দমিয়ে রেখে এর সম্পদ হস্তগত করার উদ্দেশ্যে ভার্সাই সন্ধি সাক্ষরিত হয়