উক্ত চুক্তিটি অর্থাৎ ভার্সাই সন্ধি বিশ্ববাসীর জন্য আরেকটি বিপর্যয় ডেকে এনেছিল যা পরবর্তীকালে বিশ্বকে বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।বস্তুত চুক্তি বা সন্ধি হতে হয় পারস্পরিক স্বার্থ ও সমঝোতার ভিত্তিতে। কেননা, বিবদমান দুটি পক্ষেরই চিরকাল শক্তিতে সাম্যতা প্রায় কাছাকাছি হয়, তা না হলে অতি দুর্বল কখনো যুদ্ধে দাঁড়ায় না। যুদ্ধের পরিসমাপ্তিই কাম্য, যে পরিসমাপ্তিতে জয় এবং পরাজয় একই সাথে থাকে। এখন শান্তির প্রত্যাশায় সমাপ্ত যুদ্ধের পরাজিত শক্তির প্রতি যদি অন্যায় আচরণ ও অমানবিক ক্ষতিপূরণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে তাকে পঙ্গু করে দেওয়ার হীন প্রচেষ্টা চালানো হয়, তবে তার ফলাফল হয় হিতের বিপরীত। এ সমঝোতা তখন সুফলের চেয়ে কুফলই বেশি বয়ে আনে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তিতে প্যারিসের ভার্সাই নগরীতে এমনই একটি অমানবিক ও পক্ষপাতমূলক হীন সন্ধি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এ অন্যায় ও হীন আচরণের প্রতিশোধ নিতে প্রবল জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী পরাজিত জার্মানি হিটলারের নেতৃত্বে পুনরায় বিশ্বত্রাসী হয়ে ওঠে। যার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে পৃথিবীতে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ নেমে আসে।সুতরাং উক্ত ভার্সাই চুক্তির ব্যর্থতাই যে পরবর্তীকালে বিশ্বকে আবার বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছিল বা বিশ্ববাসীর জন্য আরেকটি বিপর্যয় ডেকে এনেছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।