বিশ্ব থেকে যুদ্ধভীতি দূর করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে লীগ অব নেশন্স বা. জাতিপুঞ্জ সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়। লীগের এই ব্যর্থতার ইতিহাস সত্যি বেদনাদায়ক। জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতার কারণ ছিল অনেক। তবে নিম্নলিখিত কারণগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ-১. লীগের সদস্যপদ গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের অসম্মতি এবং বৃহৎ দুটি দেশ জার্মানি-রাশিয়াকে প্রথমদিকে সদস্যপদ না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে এর গুরুত্ব অনেকটা কমে যায়। এটি লীগের দুর্বলতা ও ব্যর্থতার একটি বড় কারণ।২. জাতিপুঞ্জের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী না থাকায় জাতিপুঞ্জের সিদ্ধান্তগুলোকে যেকোনো রাষ্ট্র সুপারিশ হিসেবে মনে করত, যা ছিল লীগের একটি দুর্বল দিক।৩. যেকোনো আন্তর্জাতিক সংগঠনের সফলতার শর্ত হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আন্তরিক সমর্থন ও সহায়তা, যা জাতিপুঞ্জের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর অনেকের মধ্যে ছিল না।৪. জার্মানির প্রতি ব্রিটেন ও ফ্রন্সের তোষণনীতি লীগের দুর্বলতা বা ব্যর্থতার অপর প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্র লীগে যোগ না দেওয়ায় প্রকৃতপক্ষে ব্রিটেন ও ফ্রান্সই লীগের ওপর কর্তৃত্ব করত। ব্রিটেন ও ফ্রান্স কর্তৃক তোষণনীতির দরুন জার্মানি ও ইতালির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লীগের পক্ষে কঠোর কোনো, ব্যবস্থা অবলম্বন করা সম্ভব হয়নি।
৫. লীগ চুক্তিপত্র ছিল গণতন্ত্রভিত্তিক একটি দলিল। কিন্তু ইউরোপে একনায়কতন্ত্রের উদ্ভব লীগের আদর্শ ও কর্মপন্থাকে নস্যাৎ করে দেয়। জার্মানি, ইতালি, জাপান ও স্পেনের আচরণ লীগের মৃত্যুঘণ্টা বাজায়।বিভিন্ন কারণে লীগ অব নেশনস বা জাতিপুঞ্জ ব্যর্থ হলেও উপর্যুক্ত কারণগুলোই ছিল প্রধান।