উদ্দীপকের সংঘের সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী 'লীগ অব নেশনস' নামক সংগঠনের সাথে মিল পাওয়া যায়।আলোচ্য উদ্দীপকে দেখা যায়, মহানবি (স.) যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে পরিত্রাণের আসায় শান্তি সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। তেমনিভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা, যুদ্ধের বীভৎসতা ও যুদ্ধপ্রসূত দারিদ্র্য ও দুর্দশা মানুষকে ভীতশ্রদ্ধ করে তোলে। এ যুদ্ধের পর ইউরোপে শান্তি স্থাপনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন 'চৌদ্দ দফা নীতি' ঘোষণা করেন। এর ১৪নং ধারায় বলা হয়, সকল জাতির প্রতি ন্যায়বিচার এবং সকল জাতির স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়তে হবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ব্যাপকতা মানুষের মনে যে গভীর রেখাপাত করেছিল তার প্রমাণ হিসেবে লীগ অব নেশনস গড়ে ওঠে। বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে লীগ অব নেশনস-এর দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল খুব বেশি, তাই এর গুরুত্বও অনস্বীকার্য। আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা হতে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিবাদ-বিসম্বাদের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা, চুক্তিভঙ্গকারী দেশের বিরুদ্ধে যথাযথ অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থা অবলম্বন এসব কিছুই লীগ অব নেশনস-এর কর্তব্যের মধ্যে ছিল। এসবের মধ্য থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, পৃথিবীর মানবগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশ মোচন, দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর রাখা লীগের দায়িত্বের মধ্যে ছিল।তাই বলা যায়, এতগুলো আন্তর্জাতিক কর্তব্য যার মধ্যে আছে বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তার গুরুত্বও নিঃসন্দেহে অনেক বেশি।