উদ্দীপকে লীগ অব নেশনস-এর কথা বলা হয়েছে। উক্ত সংগঠনের ব্যর্থতা অর্থাৎ জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতা যেভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল তা হলো-১৯৩০ সাল পর্যন্ত লীগ অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিরোধ অনেকটা সাফল্যের সাথে মোকাবিলা করে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় সমর্থ হয়। কিন্তু ১৯৩১ সালের পর বৃহৎ শক্তিগুলো পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিধাবিভক্ত হলে লীগ তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। একদিকে জাপানের সমরবাদ, অন্যদিকে ইতালির ফ্যাসিবাদ ও জার্মানির নাৎসিবাদের ফলে লীগের অধিকাংশ উদ্যোগই ব্যর্থ হয়। ১৯৩১ সালে জাপান চীনের মাঞ্চুরিয়া দখল, ১৯৩৬ সালে ইতালির আবিসিনিয়া দখল, স্পেনের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতে জার্মানি ও ইতালির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ও মদদ দান করে লীগকে বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করে। এছাড়াও হিটলার এবং মুসোলিনির বাহিনীর অস্ট্রিয়া সংযুক্তিকরণ, চেকোস্লোভাকিয়া দখল, বিভিন্ন দেশ আক্রমণ ও দখল করতে থাকলে লীগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। হিটলার মুসোলিনির এই অন্যায় আগ্রাসনের সময় ব্রিটেন ও ফ্রান্স ফ্যাসিস্টদের তোষণনীতি অনুসরণ করায় লীগ আরও অসহায় হয়ে পড়ে। এভাবেই বৃহৎ শক্তিগুলো তাদের স্বার্থে লীগকে অমান্য করতে শুরু করলে এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায় এবং বিশ্ব থেকে যুদ্ধভীতি দূর করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে লীগ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। লীগের এই ব্যর্থতার ইতিহাস সত্যিই বেদনাদায়ক। অবশেষে পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হলে লীগ অব নেশনস-এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায় এবং যৌথ নিরাপত্তা বিনষ্ট হয়। ফলে বিশ্ব আরেকটি মহাযুদ্ধের দিকে ধাবিত হয় এবং বিশ্বব্যাপী শুরু হয় হত্যা ও ধ্বংসের আরেক মহাউৎসব।