উদ্দীপকে ১৯১৯ সালের ২৮ জুন স্বাক্ষরিত ভার্সাই সন্ধির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।ঊনবিংশ শতাব্দীতে সাম্রাজ্য বিস্তারে ইউরোপীয় শক্তিগুলো যুদ্ধে লিপ্ত হয়। বিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকেই এ দলে এসে যুক্ত হয় নতুন শক্তি জার্মানি। কিন্তু অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তিগুলো তার এ আগমনকে ভালো চোখে দেখেনি। কিন্তু জার্মানিও ছিল সাম্রাজ্য বিস্তারে বদ্ধপরিকর। জার্মানি অস্ট্রো-হাঙ্গেরি ও অটোমান সাম্রাজ্যের সাথে মিত্রতা স্থাপন করে। ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ও তার পত্নী সার্ব আততায়ীর গুলিতে নিহত হলে অস্ট্রিয়া এর বিচার দাবি করে। জার্মানি তার সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য এ মোক্ষম সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অস্ট্রিয়াকে যুদ্ধে প্ররোচিত করে। ফলে ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এ যুদ্ধে বিশ্ব দুটি মেরুতে ভাগ হয়ে যায়। একদিকে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া, অন্যদিকে সার্বিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও ইতালি। অন্যদিকে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও তুরস্ক। যুদ্ধে জার্মানির শোচনীয় পরাজয় ঘটে। এর ফলে বিজয়ী শক্তি. যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালি পরাজিত জার্মানির কাঁধের উপর একপক্ষীয় 'ভার্সাই সন্ধি' চাপিয়ে দেয়। ফ্রান্স প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তার ভার্সাই নগরীতে বসে জার্মানিকে এ সন্ধি স্বাক্ষরে বাধ্য করেছিল। তাই বলা যায়, সাম্রাজ্যবাদ শক্তি হিসেবে জার্মানির আবির্ভাব এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তার শোচনীয় পরাজয়ই 'ভার্সাই সন্ধি' স্বাক্ষরের প্রধান কারণ।পরিশেষে বলা যায়, জার্মানির সাম্রাজ্যবাদ নীতি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয় এবং জার্মানিকে সামরিক শক্তির দিক থেকে দুর্বলকরণই ভার্সাই সন্ধি স্বাক্ষরের প্রধান কারণ।