হ্যাঁ, আমি মনে করি আরোপিত সন্ধির শর্তাবলি অর্থাৎ ভার্সাই সন্ধির শর্তাবলি জার্মানিকে প্রতিশোধ নিতে আগ্রহী করে তোলে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৃষ্টি হয়।প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের ফলে মিত্রশক্তি ১৯১৯ সালের ২৮ জুন জার্মানির কাঁধে ভার্সাই সন্ধি চাপিয়ে দেয়। এ সন্ধিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের যাবতীয় ক্ষয় ক্ষতির ক্ষতিপূরণ জার্মানিকে দিতে বাধ্য করা হয়। যুদ্ধের ক্ষতি পূরণ হিসেবে জার্মানির নিকট থেকে ১৩২ বিলিয়ন স্বর্ণমুদ্রা আদায় করা হয়। জার্মানির সৈন্যসংখ্যা এক লক্ষ সীমিত করা হয়। যুদ্ধের সরঞ্জাম উৎপাদন, আমদানি রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়। রাইন নদীর ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সকল জার্মান দুর্গ ও সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। সন্ধি অনুযায়ী জার্মানি তার আলসাস, লোরেন। ও খনিসমৃদ্ধ সার অঞ্চল ১৫ বছরের জন্য ফ্রান্সকে ছেড়ে দেয়। জার্মানি বেলজিয়ামকে ইউপেন, মরিসনেট, ম্যামেডি নামক জেলা ছেড়ে দেয়। জার্মানি ভার্সাই সন্ধির কঠোরতায় ন্যূজ হয়ে পড়েছিল। জার্মানবাসী ভেতরে ভেতরে ফুসছিলও সন্ধির নাগপাশ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। এমন সময় উগ্র জাতীয়তাবাদী হিটলারের আবির্ভাব ঘটে। হিটলার ভার্সাই সন্ধির নিষ্ঠুরতা থেকে জার্মানবাসীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং বিশ্বে জার্মানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবেই ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। পরিশেষে বলা যায়, ভার্সাই সন্ধির কঠোরতা ও নিষ্ঠুর বিধানই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।