উদ্দীপক: গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা। রাশি রাশি ভারা ভারা ধান কাটা হলো সারা, ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা- কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা ৷৷ একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা- চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা ॥ পরপারে দেখি আঁকা তরুছায়ামসী-মাখা গ্রামখানি মেঘে ঢাকা প্রভাতবেলা- এপারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা ৷৷ গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে! দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে । ভরা পালে চলে যায়, কোনো দিকে নাহি চায়, ঢেউগুলি নিরুপায় ভাঙে দু ধারে- দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে ৷। ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে? বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে। যারে খুশি তারে দাও - যেয়ো যেথা যেতে চাও, শুধু তুমি নিয়ে যাও ক্ষণিক হেসে আমার সোনার ধান কূলেতে এসে ॥ যত চাও তত লও তরণী-পরে । আর আছে— আর নাই, দিয়েছি ভরে ॥ এতকাল নদীকূলে যাহা লয়ে ছিনু ভুলে সকলি দিলাম তুলে থরে বিথরে- এখন আমারে লহো করুণা করে ৷৷ ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই— ছোটো সে তরী আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি। শ্রাবণগগন ঘিরে ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে, শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি- যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী ।। উদ্দীপকের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ পঙ্ক্তি কোনটি?
ক. একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা-
খ. এখন আমারে লহো করুণা করে।
গ. আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
ঘ. যত চাও তত লও তরণী-'পরে।
উত্তর: আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতায় মহাকাল মানুষের সৃষ্টিকর্মকে ধারণ করে কিন্তু ব্যক্তি মানুষকে স্থান দেয় না। কৃষক তার উৎপাদিত সোনার ধান (সৃষ্টিকর্ম) মহাকালের প্রতীক সোনার তরীতে তুলে দিলেও নিজে ঠাঁই পায় না। 'আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' পঙ্ক্তিটি এই মূলভাবকে ধারণ করে যে, মানুষের সৃষ্টিকর্মই মহাকালের বুকে অমরত্ব লাভ করে, যদিও ব্যক্তি মানুষ নশ্বর।
HSC Bangla 1st Paper কবিতা : সোনার তরী MCQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 1st Paper · কবিতা : সোনার তরী · MCQ