সুভা সেতুর মতো অনুকূল পরিবেশ পেলে তার জীবন আনন্দ ও সাফল্যে ভরে উঠত, তাই "সুভা যদি সেতুর মতো অনুকূল পরিবেশ পেত তাহলে তার জীবন এমন বিষাদগ্রস্ত হয়ে উঠত না" মন্তব্যটি যথার্থ।'সুভা' গল্পের সুভা একজন হতভাগ্য বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী। তাই সে ছিল পিতামাতার হৃদয়ভার। সে কথা বলতে পারত না বলে তার সামনেই সবাই এমনভাবে তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত যে সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপম্বরূপ বিবেচনা করে নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে চাইত। এমনকি তার মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক ভেবে বিরক্ত ছিলেন। অথচ তার প্রয়োজন ছিল একটু সহযোগিতাপূর্ণ ভালোবাসা।উদ্দীপকের সেতু টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিকলাঙ্গ এক কিশোরী। এই প্রতিবন্ধিতা তার জীবনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। সকলের সহযোগিতার ফলে অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার জন্যই সেতু 'এ' প্লাস পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও অনুকূল পরিবেশ থেকে বঞ্চিত। তাই তার জীবন বিষাদগ্রস্ত হয়ে উঠেছে।
'সুভা' গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুতা তার মা, আত্মীয়স্বজন থেকে কোনো ধরনের মানসিক সহায়তা ও সহানভূতি পায়নি। বরং মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করেছেন। সুভা যদি সবার সহানুভূতি পেত, জীবনযাপনে উৎসাহ লাভ করত, সমাজ তাকে যদি ভৎসনা না করত, প্রতাপ যদি তার মর্ম বুঝত, তাহলে তাকে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যেতে হতো না। তাই বলা যায়, সুভা যদি সেতুর মতো অনুকূল পরিবেশ পেত তাহলে তার জীবন এমন বিষাদগ্রস্ত হয়ে উঠত না। মন্তব্যটি যথার্থ।