সুভার মধ্যে নীলার মতো দৃঢ়চেতা মনোভাবের অভাবের কারণে তাকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়েছে, তাই "উদ্দীপকের নীলা চরিত্রের যে দিকটি সুভার মধ্যে অনুপস্থিত, সেটিই তার করুণ পরিণতির মূল কারণ" মন্তব্যটি যথার্থ।'সুভা' গল্পের বাক্প্রতিবন্ধী সুভা অবজ্ঞা ও অবেহলার শিকার হয়। তার সামনে সবাই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন দুশ্চিন্তা করত যে সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করত এবং আত্মগোপন করে থাকতে চাইত। সমবয়সি বালক-বালিকারা তাকে দেখে ভয় পেয়ে তার সঙ্গে খেলত না, তাই সে সঙ্গীহীন ছিল। সে প্রকৃতির কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। অন্যের অবজ্ঞায় সে দৃঢ় থাকতে পারেনি বরং গুটিয়ে গিয়েছে বেদনায়।'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী; সে কথা বলতে পারে না। এ কারণে শৈশব থেকেই সে অবহেলার শিকার। সমবয়সিরা তাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ না করে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। পরিবারে বাবা সহ্য করলেও সুভার মা সুভাকে সহজভাবে গ্রহণ করেননি। মা তাকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ মনে করেছেন। স্বাভাবিক মানুষের মতো বোধ-বুদ্ধিসম্পন্ন হয়েও সুভা সমাজ ও পরিবারের অবহেলার শিকার হয়ে নিজেকে আলাদা করে রেখেছে। সে নির্বাক প্রকৃতি, গৃহপালিত পশুগুলোর সঙ্গেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছে। এ ক্ষেত্রে উদ্দীপকের নীলা ব্যতিক্রম। নীলা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও স্বাভাবিক মানুষের মতো শিক্ষাগ্রহণ করতে চেয়েছে। ডান হাতে শক্তি না থাকলেও সে বাম হাতে লেখালেখি করে নিজের পড়াশোনা অব্যাহত রেখেছে এবং স্নাতকে ভর্তি হয়েছে, যা সুভার পক্ষে সম্ভব হয়নি।'সুভা' গল্পের সুভার কথা বলতে না পারাটাই তার জীবনের করুণ পরিণতির মূল কারণ হয়ে উঠেছিল। এ কারণেই সে সমাজ ও পরিবারের অবহেলার শিকার হয়ে মনোবল হারিয়েছে। এ ক্ষেত্রে উদ্দীপকের নীলা মনোবল হারায়নি। সে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়েছে। সুভা তার অনুভূতিকে সেভাবে প্রকাশ করতে পারেনি। সে কল্পনা করেছে প্রতিবন্ধিতা কাটিয়ে উঠতে কিন্তু বাস্তবে তা করতে পারেনি। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।