উদ্দীপকে বর্ণিত বাসযাত্রীদের সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া এবং পিছনের দিকে হেলে পড়ার মূল কারণ হলো বস্তুর জড়তা।
বস্তু যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা, তাকেই জড়তা বলে। উদ্দীপক অনুসারে, বাসটি যখন গতিশীল ছিল, তখন বাসের সাথে যাত্রীদের পুরো শরীরও গতিশীল ছিল। বাসটি হঠাৎ ব্রেক করার ফলে যাত্রীদের শরীরের নিচের অংশ যা বাসের সাথে সংলগ্ন ছিল, তা বাসের সাথে সাথেই স্থির হয়ে যায়। কিন্তু শরীরের উপরের অংশ গতি জড়তার কারণে তার আগের গতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে চায় এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। এই কারণেই ব্রেক করার মুহূর্তে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
অন্যদিকে, বাসটি যখন পুনরায় চলতে শুরু করে, তখন বাসের সাথে যাত্রীদের শরীরের নিচের অংশও গতিশীল হয়ে ওঠে। কিন্তু যাত্রীদের শরীরের উপরের অংশ স্থিতি জড়তার কারণে তার আগের স্থির অবস্থা বজায় রাখতে চায় অর্থাৎ স্থির থাকতে চায়। ফলে শরীরের নিচের অংশ সামনে এগিয়ে গেলেও উপরের অংশ পিছনের দিকে থেকে যেতে চায়, যে কারণে যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়েন।
সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, বাসের গতির আকস্মিক পরিবর্তনের সাথে শরীরের সকল অংশ তাৎক্ষণিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। শরীরের বিভিন্ন অংশের এই গতির অসমতার মূলে রয়েছে স্থিতি জড়তা ও গতি জড়তা, যা নিউটনের গতির প্রথম সূত্রের একটি বাস্তব প্রতিফলন।