উদ্দীপকের তথ্য-১-এ উল্লিখিত বলটি হলো ঘর্ষণ বল। হাঁটার সময় জুতার তলা ও মেঝের ঘর্ষণের ফলে যে বল তৈরি হয়, তা আমাদের চলাচলের জন্য যেমন অপরিহার্য, তেমনি বিভিন্ন কারণে একে সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত রাখা প্রয়োজন। নিচে এর প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো—
চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য: হাঁটার সময় আমরা পা দিয়ে মেঝের ওপর পেছনের দিকে বল প্রয়োগ করি। ঘর্ষণ বলের কারণে মেঝে আমাদের ওপর সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে, যার ফলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। ঘর্ষণ না থাকলে বা খুব কম হলে (যেমন- পিচ্ছিল মেঝে বা পিচ্ছিল রাস্তায়) আমরা পিছলে পড়ে যেতাম।
ক্ষয় রোধ করা: ঘর্ষণের কারণে জুতার তলা এবং মেঝের উপরিভাগ ক্রমাগত ক্ষয় হয়। যদি এই ঘর্ষণ বলকে সীমিত না রাখা যায়, তবে জুতা ও মেঝের স্থায়িত্ব কমে যাবে এবং অল্প সময়েই তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
শক্তির অপচয় কমানো: ঘর্ষণের ফলে যান্ত্রিকশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়, যা মূলত শক্তির অপচয়। এটি কমাতে হবে। অতিরিক্ত ঘর্ষণ অপ্রয়োজনীয় তাপ সৃষ্টি করে পরিবেশের এবং সংশ্লিষ্ট বস্তুর ক্ষতি করতে পারে।
গতির স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা: ঘর্ষণ গতির বিপরীত দিকে কাজ করে গতিরোধ করে। ঘর্ষণকে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় সীমিত রাখলে পেশি বা ইঞ্জিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, ঘর্ষণ আমাদের জীবনের একটি 'প্রয়োজনীয় উপদ্রব'। এটি ছাড়া আমরা যেমন হাঁটতে পারতাম না বা কোনো কিছু আঁকড়ে ধরতে পারতাম না, তেমনি এর মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হলে তা জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও শক্তির অপচয় ঘটায়। তাই জীবনের স্বাভাবিক গতিধারা বজায় রাখতে ঘর্ষণ বলকে সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।